জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, শিল্পী সমাজে ক্ষোভ

বিনোদন
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মিরপুরে বিএনপি কর্মী মাহফুজ আলম শ্রাবণ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এই হত্যার ঘটনায় জনপ্রিয় অভিনেতা ও এশিয়াটিক থ্রিসিক্সটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরেশ যাকেরসহ ৪০৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাই মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পী গত ২০ এপ্রিল ঢাকার চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলার আবেদন করেন।

মামলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অনেক শিল্পী-পরিচালক ইরেশ যাকেরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনার ঘটনায় গভীর হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের বক্তব্য, ইরেশ যাকের বৈষম্যবিরোধী এবং জুলাই আন্দোলনের একজন সম্মুখসারির কর্মী ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ অনৈতিক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন বলেন, "আজ ইরেশকে হেনস্তার শিকার হতে দেখে হৃদয় ভেঙে যাচ্ছে। যারা সাহস করে সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়েছে, তাদের বারবার এমন পরিণতি হতে দেখেছি। তবুও এ দৃশ্য কষ্টদায়ক ও হতাশাজনক।"

নির্মাতা আশফাক নিপুণ স্মরণ করিয়ে দেন, "১ আগস্ট ফার্মগেটে ইরেশ যাকের আমাদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন জুলাই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে। দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত হতে পারে, তবে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা সম্পূর্ণ হাস্যকর। এ ধরনের মামলায় প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার অপচেষ্টা হচ্ছে।"

অভিনেত্রী রাফিয়াথ রশীদ মিথিলা মন্তব্য করেন, "প্রথমে দুর্নীতির অভিযোগ, এরপর হত্যা মামলা—সবই সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে, যিনি সত্যের পক্ষে প্রতিবাদ করেছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।"

নির্মাতা শিহাব শাহীন এবং অভিনেতা টুটুল চৌধুরীও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করার অপচেষ্টা চলছে।

প্রযোজক রেদওয়ান রনি আরও জোর দিয়ে বলেন, "এই মামলা শুধু লজ্জাজনক নয়, এটি মূলত মূল অপরাধীদের আড়াল করার ষড়যন্ত্র।"

আরজে কিবরিয়া প্রশ্ন তোলেন, "হত্যা মামলার আসামি তৈরির এই প্রক্রিয়া কি সত্যিকার অপরাধীদের বিচার চায়?"

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সিআইসি কর ফাঁকির অভিযোগে এশিয়াটিক এমসিএল-এর সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। উল্লেখ্য, এ প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরেশ যাকের এবং চেয়ারপারসন তার মা সারা যাকের।

শিল্পী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ঘটনাকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, যেন প্রকৃত বিচার হয় এবং সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের অন্যায়ভাবে হয়রানি না করা হয়।