ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইরান খুব দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলো নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান এখন 'পারমাণবিক অস্ত্র-প্রান্তবর্তী রাষ্ট্র'। অর্থাৎ, দেশটি চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে। মার্কিন সংবাদ মাধ্যমগুলোর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরান এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে আসার জন্য। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যদি ইরান নতুন কোনো সমঝোতায় না আসে, তবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন, এই সতর্কবার্তার অর্থ হতে পারে সামরিক হামলার হুমকি।
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির খবরে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করতে হলে মার্কিন স্টেলথ বোমারের সাহায্য লাগবে, যা তাদের এককভাবে করা সম্ভব নয়। ইসরায়েল মনে করে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য পাল্টে যাবে।
অন্যদিকে, ইরান বরাবরের মতোই দাবি করেছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি একান্তই শান্তিপূর্ণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। তবে পশ্চিমা বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) ইরানের এই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিশ্বের বড় শক্তিগুলো ইরানের এই অবস্থানের ওপর নজর রাখছে। রাশিয়া ও চীন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমঝোতার পক্ষে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন চাচ্ছে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
বর্তমানে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও তাদের বর্তমান পারমাণবিক অগ্রগতি এবং পশ্চিমাদের প্রতিক্রিয়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ইরান নতুন কোনো চুক্তিতে আসে নাকি আরও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।