মানবিক সহায়তা নিয়ে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বেসামরিক জাহাজে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ত্রাণসংগঠন ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি)। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, মাল্টা উপকূল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই হামলা ঘটে। এতে জাহাজটি বিকল হয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি হয়।
সংগঠনটি দাবি করে, ইসরায়েলের চালানো এই ড্রোন হামলায় জাহাজটির সম্মুখভাগ লক্ষ্য করে দুই দফায় বোমা ফেলা হয়, যার ফলে আগুন ধরে যায় ও বিস্ফোরণ ঘটে। হামলার সময় জাহাজের জেনারেটরে আঘাত হানায় তা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এ ঘটনায় এখনো ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি।
মাল্টা সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জাহাজটিতে ১২ জন নাবিক ও ৪ জন বেসামরিক নাগরিক ছিলেন, যাঁরা সবাই নিরাপদে রয়েছেন। জাহাজটিকে সাহায্য করতে নিকটবর্তী একটি টাগ বোটকে পাঠানো হয়েছে বলেও জানানো হয়।
ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের মতে, জাহাজটিতে ২১টি দেশের অধিকারকর্মীরা ছিলেন, যারা গাজার জনগণের জন্য জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে রওনা হয়েছিলেন। গাজায় ইসরায়েলি অবরোধ ও সামরিক অভিযান বন্ধের দাবিও ছিল তাদের যাত্রার অন্যতম উদ্দেশ্য।
সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে বলেছে, “আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরস্ত্র জাহাজে এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। এর দায়ে বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতদের তলব করতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০১০ সালেও তুরস্ক থেকে গাজার উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি ত্রাণবাহী জাহাজ, মাভি মারমারায় ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালায়, যেখানে ১০ জন নিহত ও বহু আহত হয়েছিলেন।
বর্তমানে গাজা চরম মানবিক সংকটে রয়েছে। মার্চের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতি ভেঙে ইসরায়েল ফের সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর দুই মাস ধরে অঞ্চলটিকে কঠোর অবরোধে রাখা হয়েছে। খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানিসহ সব ধরণের সরবরাহ আটকে দেওয়া হয়েছে। মানবিক সংগঠনগুলো বলছে, তাদের মজুদ শেষ পর্যায়ে, এবং গাজায় রান্নাঘরগুলোর কার্যক্রমও বন্ধ হওয়ার মুখে।
ইসরায়েলের দাবি, ত্রাণ সহায়তা হামাস চুরি করে তাদের যোদ্ধাদের দিয়ে দেয়। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে ত্রাণ সহায়তায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।