চীনের পাল্টা শুল্কে ধস নামলো মার্কিন শেয়ারবাজারে

আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণার জবাবে চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করলে বিশ্ববাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। এর ফলে শুক্রবার নিউ ইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে বড় ধরনের দরপতন ঘটে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রধান স্টক সূচকই ৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধস মূলত বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা থেকে সৃষ্ট বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কের প্রতিফলন। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ঘোষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সব প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ বেঞ্চমার্ক শুল্ক আরোপ করা হবে। এর মধ্যে ৬০টিরও বেশি দেশে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর প্রতিক্রিয়ায় চীন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর গড়ে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। চীনের এই ঘোষণা সামনে আসার পরপরই ওয়াল স্ট্রিটে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা যায়।

বিশেষ করে, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকটি একদিনেই ৬ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে, যা ২০২০ সালের মহামারিকালীন পতনের পর সবচেয়ে বড় একদিনের ধস। একইসঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সূচক ন্যাসড্যাক এবং শিল্পভিত্তিক ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজেও প্রায় সমপরিমাণ পতন রেকর্ড করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও দুর্বল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা দেখা দিতে পারে। বাণিজ্যনীতির এমন আচমকা পরিবর্তন বিশ্ববাজারকেও প্রভাবিত করেছে, ইউরোপ এবং এশিয়ার বাজারেও ধস দেখা গেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কড়াকড়ি বাণিজ্য নীতির ফলে বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। অনেকেই আশা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে, যাতে এই বাণিজ্য উত্তেজনা নিরসন করা যায়।