যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কে বিপর্যস্ত এশিয়ার শেয়ারবাজার, বাংলাদেশি রপ্তানিতে শঙ্কা

আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন উচ্চ শুল্ক আজ বুধবার থেকে কার্যকর হয়েছে। বিশ্বের প্রায় সব দেশের রপ্তানিপণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়ার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র এবার বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ, ভারতের ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ২৯ শতাংশ এবং চীনের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। আগে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। ফলে তৈরি পোশাক খাতসহ অন্যান্য রপ্তানি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৭৩৪ কোটি ডলার।

চীনের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বুধবার সকালেই এশিয়ার শেয়ারবাজারে ব্যাপক পতন দেখা যায়। জাপানের নিক্কি সূচক কমেছে ৩.৫ শতাংশ, হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ৩.১ শতাংশ, আর চীনের ব্লু চিপস সূচক কমেছে ১.২ শতাংশ। এছাড়া, ইউরোপের ইউরোস্টক্স ৫০ সূচক ৪.৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার সূচকও ১.৭ শতাংশ কমেছে।

বিশ্বের বৃহত্তম তেল আমদানিকারক চীনের ওপর শুল্কের প্রভাব পড়েছে জ্বালানিবাজারেও। ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম ৩.৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি ব্যারেল ৬০.৩৬ ডলারে, যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়াসহ আরও অনেক দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।

বাংলাদেশ সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান, এই বাড়তি শুল্কের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ও বাণিজ্য উপদেষ্টা এরই মধ্যে চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে। তিনি আশাবাদী, পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উভয় দেশের জন্য লাভজনক একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে।