চীনের শেনঝো–২১ মহাকাশযান এবং এর তিনজন নভোচারী শুক্রবার উত্তর-পশ্চিম চীনের জিউকুয়ান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে লং মার্চ–২এফ রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে মহাকাশে যাত্রা করেছে বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এটি ২০২২ সালে সম্পন্ন হওয়া চীনের স্থায়ীভাবে বসবাসযোগ্য মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগং-এ পাঠানো সপ্তম মিশন।
তরুণ নভোচারীদের যুগ
শেনঝো মিশনগুলোতে সাধারণত তিনজন নভোচারী ছয় মাস করে মহাকাশে অবস্থান করেন। এবারও অভিজ্ঞ নভোচারীদের পাশাপাশি তরুণদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রথমবারের মতো অংশ নিচ্ছেন ঝাং হংঝাং (৩৯) এবং উ ফেই (৩২) — উ ফেই হচ্ছেন চীনের মহাকাশে পাঠানো সর্বকনিষ্ঠ নভোচারী। তাদের সঙ্গে আছেন কমান্ডার ঝাং লু (৪৮), যিনি ২০২২ সালের শেনঝো–১৫ মিশনে অংশ নিয়েছিলেন।
মহাকাশ স্টেশনে প্রথম ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী
শেনঝো–২১ দলের সঙ্গে চারটি কালো ইঁদুর পাঠানো হয়েছে, যা চীনা মহাকাশ স্টেশনে পাঠানো প্রথম ছোট স্তন্যপায়ী প্রাণী। এই ইঁদুরগুলোর ওপর নিম্ন-কক্ষপথে প্রজনন সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হবে। শেনঝো–২১ দলটি বর্তমানে স্টেশনে থাকা শেনঝো–২০ দলের দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যারা ছয় মাস মহাকাশে কাজ করার পর শিগগিরই পৃথিবীতে ফিরবেন।
চীনের অগ্রগতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা
প্রতি ছয় মাস পরপর নতুন অভিযান চালানো এখন চীনের শেনঝো প্রোগ্রামের নিয়মে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে তারা একাধিক মাইলফলক অর্জন করেছে— ১৯৯০-এর দশকে জন্ম নেওয়া নভোচারীদের মহাকাশে পাঠানো, একটি বিশ্ব রেকর্ডধারী স্পেসওয়াক সম্পন্ন করা, এবং আগামী বছরে পাকিস্তানের প্রথম নভোচারীকে তিয়ানগং স্টেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা গ্রহণ। চীনের এই দ্রুত অগ্রগতি ওয়াশিংটনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রও চাঁদে পুনরায় নভোচারী পাঠানোর দৌড়ে নেমেছে, যাতে চীনের আগে সেই কৃতিত্ব অর্জন করা যায়। বর্তমানে দুই দেশই মহাকাশে প্রভাব বিস্তারের কূটনৈতিক প্রতিযোগিতায় রয়েছে —একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে “আর্তেমিস অ্যাকর্ডস”, অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্বে “ইন্টারন্যাশনাল লুনার রিসার্চ স্টেশন” প্রকল্প গড়ে উঠছে।