১৮ মার্চ ২০২৫ যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ৪০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৫৬০ জন আহত হয়েছেন। এই হামলা গাজার বিভিন্ন স্থাপনা ও জনবসতিতে চালানো হয়েছে, যেখানে নারী ও শিশুরাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এই হামলার পর এক ঘোষণায় বলেছেন, "হামাসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই বন্ধ হবে না। আমরা তাদের ধ্বংস না করা পর্যন্ত হামলা চালিয়ে যাব। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্ত করার জন্য এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, হামাস এই হামলাকে "যুদ্ধবিরোধী অপরাধ" বলে উল্লেখ করেছে এবং প্রতিশোধমূলক হামলার হুমকি দিয়েছে। হামাসের সামরিক শাখার মুখপাত্র জানিয়েছেন, "আমরা আমাদের ভূমি ও জনগণের রক্ষার্থে যে কোনো মূল্যে প্রতিরোধ চালিয়ে যাব।
গাজার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, "এই হামলা মানবিক সংকট আরও গভীর করবে এবং নিরীহ মানুষের জীবন বিপন্ন করবে।" আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইসরায়েলকে অবিলম্বে হামলা বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছে।
তুরস্ক, ইরান ও মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি মুসলিম দেশ ইসরায়েলের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এক বিবৃতিতে বলেন, "গাজায় গণহত্যা চলছে, আর বিশ্ব তা নীরবে দেখছে। আমরা ফিলিস্তিনের জনগণের পাশে আছি।"
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি হামলায় অসংখ্য হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে চিকিৎসাসেবা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে গাজায় খাবার, পানি ও ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, "গাজায় প্রতি ১০ জনের মধ্যে মাত্র একজন নিরাপদ পানীয় জল পাচ্ছে, যা চরম মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর এই হামলা গাজায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। একই সঙ্গে, হামাসও এর পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কীভাবে মধ্যস্থতা করবে এবং এই সংঘাত কতটা দীর্ঘায়িত হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এই পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হলে, মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি ও বিশ্ব নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।