পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির প্রেক্ষিতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনি বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাকচিকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি হস্তান্তর করেছেন।
এই কূটনৈতিক সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ওমানে অনুষ্ঠিত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাকে "গঠনমূলক ও ইতিবাচক" বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে, এবং দ্বিতীয় দফার আলোচনা আগামী সপ্তাহান্তে রোমে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আরাকচি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের আমাদের অধিকার নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে একাধিকবার বোমাবর্ষণের হুমকি দিয়েছেন এবং হুমকি দিয়েছেন যে, যারা ইরানের কাছ থেকে তেল কিনবে, তাদের ওপরও শুল্ক আরোপ করা হবে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে।
রাশিয়া, যেটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির অন্যতম স্বাক্ষরকারী, ইরানের দীর্ঘদিনের মিত্র। এ বছর তারা ২০ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যদিও এতে পারস্পরিক সামরিক সহায়তার ধারা অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে আরাকচি বলেন, “চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের সবসময় ঘনিষ্ঠ পরামর্শ হয়েছে পারমাণবিক বিষয়ে। এখন রাশিয়ার সঙ্গে এমন পরামর্শের ভালো সময়।”
চিঠির বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করা না হলেও, জানা গেছে এতে আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক বিষয়বস্তু রয়েছে। পুতিন পরবর্তীতে আরাকচিকে ক্রেমলিনে স্বাগত জানান।
পশ্চিমা শক্তিগুলো বলছে, ইরান এমন মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে, যা নাগরিক পারমাণবিক শক্তি উৎপাদনের চেয়ে অনেক বেশি এবং তা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী। তবে ইরান দাবি করছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং শুধু বেসামরিক উদ্দেশ্যে।
ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়া ইতিমধ্যেই ইরান থেকে অস্ত্র কিনেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হোক তা চায় না মস্কো। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনের আগপর্যন্ত রাশিয়া ও ইরান একসাথে যুদ্ধ করেছে।
রাশিয়া স্পষ্ট জানিয়েছে, ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলা "অবৈধ এবং অগ্রহণযোগ্য"। তবে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি যে, ভবিষ্যৎ কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে তারা ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের হেফাজতে নিতে প্রস্তুত কিনা।