বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকদের ‘প্রেমের ফাঁদে’ ফেলে প্রতারণার অভিযোগে মডেল মেঘনা আলমের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) সকালে মেঘনা আলমকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত প্রতারণা মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) তার গ্রেফতার সমর্থন করেন। শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া মেঘনা আলমকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মেঘনা আলম ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে এক ধরণের ‘প্রেমের ফাঁদ’ পেতে প্রতারণা করতেন। মূলত সুন্দরী নারীদের ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলার পর তাদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হতো। পরবর্তীতে এসব তথ্য ব্যবহার করে অর্থ আদায় ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
এই মামলায় মেঘনা আলমের অন্যতম সহযোগী দেওয়ান শমীরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।
এর আগে, গত ৯ এপ্রিল রাতে ডিটেনশন আইনে মেঘনা আলমকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তখন তার বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো মামলা না থাকায় নেটিজেনদের মাঝে প্রশ্ন ওঠে—অপরাধের প্রমাণ থাকলে তাকে মামলায় গ্রেফতার না করে কেন ডিটেনশন আইনে নেওয়া হলো?
এই ইস্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। জনমতের চাপে অবশেষে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ডিটেনশন আইনে গ্রেফতার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মুখে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের প্রধান রেজাউল করিম মল্লিককে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এই চক্রের সঙ্গে আরও কয়েকজন মডেল ও ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হবে বলে জানানো হয়েছে।