ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে ৪৩তম বিসিএসের দ্বিতীয় গেজেট থেকে বাদ পড়া ২২৭ জনের দাবিতে অনশন আজ ১৩০ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। চাকরিতে যোগদানের নিশ্চয়তা এবং একটি স্বচ্ছ ভেরিফিকেশন নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবিতে তাঁরা গত মঙ্গলবার থেকে আমরণ অনশনে রয়েছেন।
আজ রোববার দুপুরে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি জানাতে উপস্থিত হন ডাকসুর সাবেক সহসভাপতি এবং জাতীয় গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক। তিনি বলেন, “যে সরকার শিক্ষার্থী ও তরুণদের মেধার কথা বলে ক্ষমতায় এসেছে, সেই সরকারের আমলেই মেধাবীরা চাকরির জন্য অনশন করতে বাধ্য হচ্ছে—এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জার।”
চাকরি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয়বহুল আবেদন প্রক্রিয়াকে দায়ী করে নুরুল হক বলেন, “প্রতিটি আবেদন করতে প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হয়। অনেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে সেই টাকা জোগাড় করতে জমিও বিক্রি করতে হচ্ছে। নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোরই উচিত এসব ব্যয় বহন করা।”
তিনি আরও জানান, সরকারের নির্লিপ্ত আচরণের প্রতিবাদে প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিতে যাবেন তাঁরা। “আপনারা আল্টিমেটাম দিন, আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকব,” বলেন তিনি অনশনকারীদের উদ্দেশে।
অনশনরত তমা রায় জানান, চার মাস আগে সিনিয়র সচিব আশ্বাস দিয়েছিলেন যে দুই কর্মদিবসের মধ্যেই তাঁদের গেজেট প্রকাশ হবে। “কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কিছুই পাইনি,” বলেন তিনি।
এদিকে কৃষি ক্যাডারের গেজেট–বঞ্চিত মোহাম্মদ আলী নেওয়াছ বলেন, “প্রথম গেজেট প্রকাশের সময় অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হয়েছিল। এখন ২২৭ জনকে বাদ দেওয়ার কোনো স্বচ্ছ কারণ জানানো হয়নি। যদি কোনো বৈধ কারণ না থাকে, তাহলে আমাদের সবাইকে গেজেটভুক্ত করতে হবে।”