সাবেক মন্ত্রী তাজুল ইসলামের স্ত্রীর ৩০৪ একর জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার ও ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ

বাংলাদেশ

সাবেক স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলামের স্ত্রী ফৌজিয়া ইসলামের নামে থাকা প্রায় ৩০৪ দশমিক ৫৯ একর জমি, একটি ফ্ল্যাট, ২৬টি শেয়ার এবং একাধিক ব্যাংক হিসাব জব্দ ও অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। দুদকের পক্ষে উপ-পরিচালক আবু মোহাম্মদ আনোয়ারুল মাসুদ এই আবেদন করেন।

অবরুদ্ধ অস্থাবর সম্পদের তালিকায় রয়েছে ১২টি ব্যাংক হিসাব ও ১৪টি প্রতিষ্ঠানে থাকা শেয়ার। ব্যাংক হিসাবগুলোতে মোট অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৫ টাকা এবং শেয়ারের মূল্য ৩ কোটি ১৯ লাখ ১২ হাজার ৪৮০ টাকা। এইসব অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬১ লাখ ৭৭ হাজার ২১৫ টাকা।

স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার গুলশানে জমিসহ একটি ফ্ল্যাট, চট্টগ্রামের হালিশহরে চারতলা একটি বাসার এক-তৃতীয়াংশ মালিকানা এবং বান্দরবানের লামা উপজেলায় ইজারা ও বায়না দলিলের ভিত্তিতে ৫৩টি দলিলের আওতায় ৩০৪ দশমিক ৫৯ একর জমি।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, ফৌজিয়া ইসলাম অসাধু উপায়ে অর্জিত, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৬ কোটি ৯০ লাখ ২ হাজার ৪ টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। এসব সম্পদ অর্জনে তার স্বামী মো. তাজুল ইসলাম অসদুপায়ে উপার্জিত অর্থের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছেন।

এছাড়া, তদন্তে ফৌজিয়া ইসলামের ১১টি ব্যাংক হিসাব থেকে সন্দেহজনকভাবে ১৩ কোটি ৯৩ লাখ ৫০ হাজার ২০৩ টাকা জমা এবং ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৪৪ হাজার ৯৭৫ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ২৭ কোটি ১১ লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮ টাকা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে আয়ের উৎস গোপন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় একটি মামলা রুজু হয়েছে।

এর আগে ১৩ এপ্রিল আদালত মো. তাজুল ইসলামের নামে থাকা ঢাকা, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে মোট ২৮ দশমিক ৬৩ বিঘা জমি, কুমিল্লায় দুটি বাণিজ্যিক স্পেস, একটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকানসহ ৫০টি ব্যাংক হিসাব এবং শেয়ারে থাকা ২৮ কোটি টাকার সম্পদ জব্দের আদেশ দেন।