শাপলা নয়, তালিকায় যুক্ত হলো ‘শাপলা কলি’: ইসির ব্যাখ্যা

বাংলাদেশ
রাজনৈতিক দলগুলোর চাহিদা নয়, বরং প্রতীক নিয়ে বিরূপ মতামত বিবেচনায় এনে ‘শাপলা কলি’ যুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন,

“কোনো দলের অনুরোধে নয়, কিছু প্রতীক নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ায় তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। এ সময় ‘শাপলা কলি’সহ কয়েকটি নতুন প্রতীক সংযোজন করা হয়েছে।”

সিনিয়র সচিব জানান, আগের ১১৫টি প্রতীকের মধ্যে ১৬টি বাদ দিয়ে নতুন কয়েকটি যুক্ত করে সংশোধিত তালিকায় মোট ১১৯টি প্রতীক রাখা হয়েছে।

এর আগে নির্বাচন কমিশন ‘নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮’ সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে ১৯৭২ সালের আর্টিকেল ৯৪ অনুযায়ী ক্ষমতাবলে বিধির ৯(১) উপবিধি সংশোধন করে প্রতীকের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়, যেখানে ‘শাপলা কলি’ আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

প্রতীকের তালিকায় নতুন সংযোজন

নতুন তালিকায় আনারস, গাভি, টেলিভিশন, বই, রেল ইঞ্জিন, বাঘ, ঈগল, হাত, ধানের শীষ, লাঙল, বাইসাইকেল, হাতি, নৌকা (স্থগিত), শাপলা কলি, প্রজাপতি, মোটরসাইকেল, ফুলকপি, মোরগসহ মোট ১১৯টি প্রতীক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এনসিপির প্রতীক বিতর্ক

এদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দীর্ঘদিন ধরে ‘শাপলা’ প্রতীক দাবিতে অনড় ছিল। নিবন্ধন আবেদনের সময় তারা শাপলার পাশাপাশি কলম ও মোবাইল ফোন প্রতীক প্রস্তাব করেছিল। পরে শুধুমাত্র ‘শাপলা’ প্রতীকেই জোর দেয় দলটি।

তবে নির্বাচন কমিশন জানায়, বিদ্যমান বিধিমালায় ‘শাপলা’ না থাকায় তা বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ নেই। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রার্থীরা শুধুমাত্র অনুমোদিত তালিকা থেকেই প্রতীক বেছে নিতে পারবেন।

সবশেষে, কমিশনের সংশোধিত তালিকায় ‘শাপলা কলি’ যুক্ত হওয়ায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—যদিও ইসি বলছে, এতে “বিতর্কের কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।”