রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় অর্থনীতির গতি শ্লথ, বিশ্বব্যাংকের আশঙ্কা

বাংলাদেশ
বাংলাদেশে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা সংকট এবং নীতিগত অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।

ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৩.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। রাজনৈতিক উত্তেজনা, উচ্চ সুদের হার ও বিনিয়োগে স্থবিরতা এই প্রবৃদ্ধি হ্রাসের মূল কারণ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কবে হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। অন্তর্বর্তী সরকার এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতানৈক্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একই সঙ্গে, পুলিশ বাহিনীর পূর্ণ প্রস্তুতির অভাব নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে—কমিটি, কমিশন ও টাস্কফোর্স গঠনের পাশাপাশি ব্যাংক খাত সংস্কারের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তবে বহু সংস্কার এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

বিশ্বব্যাংকের মতে, অর্থনীতিকে সচল রাখতে চারটি প্রধান খাতে জরুরি সংস্কার প্রয়োজন:
১. সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা
২. সরকারি ও করপোরেট খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা
৩. রাজস্ব আদায় বাড়ানো
৪. আর্থিক খাতের দুর্বলতা দূর করা

২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ছিল মাত্র ৭.৪ শতাংশ, যা উন্নয়ন চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট নয়।

বিশ্বব্যাংক আরও বলছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতির কারণে বাংলাদেশের রপ্তানিতে আগামী বছর প্রভাব পড়তে পারে। তবে চলতি অর্থবছরে সেই প্রভাব তুলনামূলক কম থাকবে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৈশ্বিক বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে দেশের রপ্তানি ১.৭ শতাংশ এবং প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ০.৫ শতাংশীয় পয়েন্ট কমে যেতে পারে।