যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক সমস্যা সমাধানে সরাসরি যুক্ত হবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশ
বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক সমস্যার সমাধানে সরাসরি যুক্ত হচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন প্রধান উপদেষ্টার হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান। তিনি সেখানে মার্কিন শুল্ক বিভাগসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। বর্তমানে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার রাজধানীর যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনে এ বিষয়ে এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের উপদেষ্টা, অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন আহমেদ জানান, “যুক্তরাষ্ট্র তাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে নানা দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করছে। তবে আমাদের লক্ষ্য থাকবে এই পরিস্থিতি থেকে কূটনৈতিকভাবে উত্তরণ এবং আমদানি-রপ্তানির ভারসাম্য রক্ষা করা।”

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রতিযোগিতামূল্য থাকা সত্ত্বেও ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বেশি শুল্ক আরোপ একটি বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে একটি সংক্ষিপ্ত প্রস্তাবনা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, “এই শুল্ক আরোপ আকস্মিক নয়। আমরা শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা করে আসছি। সব সমস্যার সমাধান কূটনীতির মাধ্যমে হয় না, তাই এখন সরাসরি উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা দরকার।”

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রয়োজনে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শুল্ক পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে পারে। উল্লেখ্য, আগামী ৯ এপ্রিল থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন আহমেদ, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, পিআরআই চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তারসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও বিশেষজ্ঞরা।