রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা মামলাগুলোতে দেশের সাবেক বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বুধবার (৯ জুলাই) ঢাকা মহানগর হাকিম মাসুম মিয়া এই আদেশ দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে।
সকালে ১০টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকা সিএমএম আদালতের কাঠগড়ায় হাজির করা হয় সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দীপু মনিকে তসবিহ হাতে জপ করতে দেখা যায়। শুনানি শেষে তাঁকে আবার আদালতের হাজতখানায় নেওয়ার সময়ও তাঁর হাতে ছিল তসবিহ।
অন্যদিকে জুনাইদ আহমেদ পলক আদালতে তাঁর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিনের সঙ্গে কথা বলার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন। আদালতের বাইরে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনদের দিকে তাকিয়ে তিনি অঝোরে কাঁদতে থাকেন। স্বজনরাও আবেগে ভেসে পড়েন। আইনজীবী ফারজানা জানান, আদালতে উপস্থিত হয়ে পলক তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকাহত হয়ে পড়েন। এ সময় তাঁর মাথায় হেলমেট, পরনে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতে হাতকড়া ছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে পুলিশ দীপু মনি ও পলককে ঢাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা ও হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পর্যায়ক্রমে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এছাড়াও যাত্রাবাড়ী থানার নতুন মামলায় সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টাসহ আরও নয়জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁরা হলেন—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, ডা. দীপু মনি, আমির হোসেন আমু, জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক আইজিপি শহিদুল হক এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান।
মামলার ভিত্তিতে বিভিন্ন ব্যক্তিকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যেমন, সালমান এফ রহমান, ডা. দীপু মনি ও আমু একটি মামলায়, আনিসুল হক, পলক, জাহাঙ্গীর, শহিদুল ও আবুল হাসান দুটি মামলায় এবং কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে আটটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এই মামলাগুলো চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জুলাই মাসের আন্দোলন ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলির পটভূমিতে দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।