মুরাদনগরে নারী নির্যাতন: আরও ১২ আসামি চিহ্নিত, তদন্তে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বাংলাদেশ
কুমিল্লার মুরাদনগরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও অন্তত ১০ থেকে ১২ জনের সম্পৃক্ততা শনাক্ত করেছে। পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে এই তথ্য। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের একাধিক টিম অভিযান পরিচালনা করছে।

জানা গেছে, ভিডিওকাণ্ডে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ড শুনানি আগামীকাল (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে বাকি অভিযুক্তরা ইতোমধ্যে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে বলে জানায় স্থানীয় সূত্র।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া খোকন বলেন, “যারা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তাদের বাড়িগুলোতে এখন কেবল নারীরা অবস্থান করছেন, পুরুষ সদস্যরা পলাতক।”

এক প্রতিবেশী জানান, নির্যাতনের সময় ওই নারীর মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। কিছু সময় পর তারা ফিরে এলে, অভিযুক্তরা ভয়ভীতি দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ভুক্তভোগীর স্বামীর কাছে পাঠিয়ে সংসার ভাঙার হুমকি দেওয়া হয়।

মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। পুলিশের পাশাপাশি ডিবির সিনিয়র কর্মকর্তারাও অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।”

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণের ঘটনাটি সামনে আসে, যেখানে প্রতিবাদ করতে গিয়ে এক যুবককে মারধর করা হয় এবং তার ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই সময় অভিযুক্তরা ফজর আলী নামে এক ব্যক্তিকে ধর্ষণের অভিযোগে গণপিটুনি দিয়ে তার হাত-পা ভেঙে দেয়। এই ঘটনায় পুলিশ প্রধান আসামি ফজরসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আজ দুপুরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ হেলিকপ্টারে ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গেলে জানতে পারেন, নারীটি আগের দিনই স্বামীর বাড়ি চলে গেছেন।

পরে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত এক সমাবেশে কায়কোবাদ বলেন, “যারা এই জঘন্য নির্যাতনে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “এই থানায় যোগদানের পর ওসি ও একজন উপদেষ্টা আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করেছেন, যার ফলে এমন ঘটনা ঘটছে।”

তবে ওসি জাহিদুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলকে পুনর্বাসন করে না।”

সমাবেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।