বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর পরিবারের সাত সদস্যের নামে থাকা ২২টি কোম্পানির মোট ৭৫ কোটি ৪৬ লাখ ৯০ হাজার ৩০২টি শেয়ার অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এসব শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৪৫৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এছাড়া ওই পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা ৭০টি হিসাবের মোট ১৯ কোটি ৮১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার ৫৩৮ মার্কিন ডলারও (যার মূল্য প্রায় ১২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা) অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই আদেশ দেন ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. জাকির হোসেন, দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে।
দুদক জানায়, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন কোম্পানিতে মালিকানাধীন শেয়ারের হস্তান্তর করার চেষ্টা করছেন, যা তদন্তের স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্তের সুযোগ বজায় রাখতে এসব সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
যেসব কোম্পানির শেয়ার অবরুদ্ধ হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:
ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি, মেঘনা সিমেন্ট, বসুন্ধরা পেপার, এলপি গ্যাস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স, স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, হর্টিকালচার, ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ড্রেজিং, ইমপোর্ট এক্সপোর্ট, ট্রেডিং কোম্পানি, ক্রিস্টাল প্রপার্টিজ, মাল্টিপেপার, প্যাকেজিং, গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনাইটেড সিটি টুইন টাওয়ার, টগি রিয়েল এস্টেট, সিমেন্ট মিলস ও ইন্ডাস্ট্রিজ, বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট, টিস্যু ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ।
দুদকের মতে, ১৯৯৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই পরিবারের ব্যাংক হিসাবে প্রায় ২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা ও ১ লাখ ৯২ হাজার ডলারের লেনদেন হয়েছে। যদিও বর্তমানে এসব হিসাবে রয়েছে মাত্র ১৯ কোটি টাকা ও কিছু বিদেশি মুদ্রা।
এর আগে ২০২3 সালের ডিসেম্বর মাসে, বিদেশে থাকা সম্পদও অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। জানা গেছে, ইউএই’র বুর্জ খলিফায় একটি ফ্ল্যাট, যুক্তরাজ্য, স্লোভাকিয়া ও সাইপ্রাসে বাড়ি ও বিনিয়োগসহ প্রায় ১৪৩ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে এই পরিবারের।
বিদেশে বিনিয়োগ ও নাগরিকত্ব:
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সায়েম সোবহান আনভীর ৩০ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করে স্লোভাকিয়ার নাগরিকত্ব, তাঁর স্ত্রী ইয়াশা সোবহান ২০ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করে সাইপ্রাসের নাগরিকত্ব, এবং চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ও তাঁর স্ত্রী আফরোজা বেগম ২.৫ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন—যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া করা হয়েছে।
তারা স্লোভাকিয়া, সেন্ট কিটস, সুইজারল্যান্ড, সাইপ্রাস, ইউএই, যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরে ১৯টি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছে এবং এসব দেশে ব্যাংক লেনদেনেরও তথ্য পেয়েছে দুদক।
উল্লেখ্য, গত বছর ২১ অক্টোবর এই পরিবারের আট সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত।