লেখক ও অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তন হলেও ফ্যাসিস্ট রেজিমের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি জানান, আগের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঘটে যাওয়া গুম, খুন ও আন্দোলনের সময়ের হত্যাকাণ্ডগুলোর বিচার এখনো শুরু হয়নি, যা বর্তমান সরকারের অযোগ্যতা, অদূরদর্শিতা ও অক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।
শনিবার রাজধানীর গ্রিন রোডে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) কার্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান ও বৈষম্যবিরোধী সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়: পনেরো সমন্বয়কের সাক্ষাৎকার’ বইয়ের প্রকাশনা উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সলিমুল্লাহ খান বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল বিদেশি দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে; আর সাম্প্রতিক আন্দোলন দেশেরই রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে। এবারের আন্দোলনে ‘বৈষম্যবিরোধী’ শব্দটি গভীরভাবে অনুরণিত হয়েছে। এই শব্দের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের জাদু। পাশাপাশি মানবিক মর্যাদার দাবি, যা বাংলাদেশে কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি, এবার আবার নতুনভাবে উচ্চারিত হয়েছে।”
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা কমিশন গঠনের সামর্থ্য নেই। স্বাধীনতার পর দেশে আট থেকে দশটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হলেও বেশিরভাগই ফলপ্রসূ হয়নি।”
জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে প্রকাশিত বই প্রসঙ্গে সলিমুল্লাহ খান জানান, ইতিহাসকে সংরক্ষণ ও সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য এই বইয়ের প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, “জুলাই আন্দোলনের স্পিরিট এত দ্রুত হারাতে বসেছে কেন, তা বুঝতে হবে। এই আন্দোলন নিয়ে আরও গবেষণা ও বই হওয়া উচিত।”
অনুষ্ঠানে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগদানের মধ্য দিয়ে তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীতে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও তখন সক্রিয় ছিলেন, ফলে আন্দোলন ব্যাপক আকার নেয়।
আলোচনায় আরও অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম, লিম্যান কলেজ, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের ফ্যাকাল্টি শিবলী আজাদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক ফারহান হাসান। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।