প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদন, দেশে স্টারলিংকের সেবা শুরু হচ্ছে মে মাসে

বাংলাদেশ

স্যাটেলাইটভিত্তিক বৈশ্বিক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে। আজ সোমবার প্রধান উপদেষ্টা এ অনুমোদন দেন বলে তাঁর প্রেস উইং জানিয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলঙ্কার পর দ্বিতীয় দেশ, যেখানে স্টারলিংক সেবা চালু করতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রধান উপদেষ্টার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, মে মাসের মাঝামাঝিতে স্টারলিংক বাণিজ্যিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারে। প্রাথমিকভাবে তারা স্থানীয় গেটওয়ে ছাড়া ৯০ দিনের জন্য সেবা চালুর অনুরোধ করেছে এবং সরকার এ ব্যাপারে সাময়িক অনুমতি প্রদান করবে। বর্তমানে ট্যারিফ প্ল্যান নির্ধারণের কাজ চলমান রয়েছে, যার জন্য স্টারলিংক বিটিআরসিতে আবেদন করবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের সময়কালে বারবার ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশে স্টারলিংক আনার দাবি প্রবল হয়। এই প্রেক্ষাপটে, দেশের বিনিয়োগবান্ধব ভাবমূর্তি তুলে ধরার জন্য এবং দুর্গম, উপকূলীয় ও পাহাড়ি অঞ্চলে উচ্চগতির নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা নিজ উদ্যোগে স্পেসএক্স সিইও ইলন মাস্ককে ফোন করে দ্রুত স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানান। এ লক্ষ্যে বিডা, বিটিআরসি, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় একযোগে কাজ করেছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও জানান, স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার একটি বড় সুবিধা হলো, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হলেও ইন্টারনেট সংযোগ বিঘ্নিত হবে না। ফাইবার বা মোবাইল টাওয়ারের নির্ভরতার বাইরে গিয়ে, বিশেষ করে বিদ্যুৎহীন এলাকায়ও ব্যবহারকারীরা নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট পাবেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গত ২৫ মার্চ স্টারলিংকসহ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নতুন লাইসেন্সিং গাইডলাইন জারি করে। স্টারলিংক প্রয়োজনীয় ফি ও কাগজপত্রসহ বিটিআরসিতে আবেদন করে এবং ২১ এপ্রিল কমিশন সভায় নীতিগতভাবে লাইসেন্স প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।