রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ‘আর্টেমিস অ্যাকর্ডস’-এ স্বাক্ষরকারী ৫৪তম দেশ হিসেবে যুক্ত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের নতুন সুযোগ পাবে।
চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন প্রতিরক্ষা সচিব মো. আশরাফ উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম, স্পারসো চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল ইসলাম এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্তর আমেরিকা উইংয়ের মহাপরিচালক এএফএম জাহিদ-উল-ইসলাম।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, “এই চুক্তি বাংলাদেশের মহাকাশ গবেষণার এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এর ফল পেতে সময় লাগবে, হয়ত ২০-২৫ বছর, তবে এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মহাকাশ গবেষণা, মহাকাশ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের অংশীদার হলো।”
প্রতিরক্ষা সচিব আশরাফ উদ্দিন জানান, এই অ্যাকর্ড মূলত আন্তর্জাতিক মহাকাশ চুক্তিসমূহের ভিত্তিতে গঠিত একটি নির্দেশিকা, যা মহাকাশের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও টেকসই ব্যবহারে সহায়ক। তিনি আরও বলেন, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত স্পারসো শুরু থেকেই মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের নীতিমালা অনুসরণ করছে।
বর্তমানে ৫৩টি দেশ, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশ, ইতিমধ্যে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। বাংলাদেশ এখন এই মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক মহাকাশ জোটের অংশ।
চুক্তির ফলে, স্পারসো ও নাসার মধ্যে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও মহাকাশ অভিযানে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এটি বাংলাদেশের মহাকাশ প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট কার্যক্রম এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।