তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে আজ আপিল বিভাগের রায়

বাংলাদেশ
নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে দায়ের করা আপিল ও সংশ্লিষ্ট আবেদনের ওপর আজ (বৃহস্পতিবার) রায় ঘোষণা করবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এই রায়ের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে—১৪ বছর আগে বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে আসছে কি না, এলে কোন কাঠামোয় আসবে এবং কবে থেকে কার্যকর হবে।
গত ১১ নভেম্বর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চে শুনানি শেষ হয়। পরে আজ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়। কার্যতালিকার ১ ও ২ নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ আপিল ও আবেদন। অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আশা—চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর করার সুযোগ রেখে আদালত রায় ঘোষণা করবেন।
২০০৫ সালে প্রদত্ত রায়ে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিপন্থী’ বলে ঘোষণা করে বাতিল করেন। যদিও রায়ে উল্লেখ ছিল, প্রয়োজন বিবেচনায় দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেও হতে পারে।
কিন্তু রায় ঘোষণার সাত দিন পর অবসরে যান বিচারপতি খায়রুল হক। প্রায় ১৬ মাস পর, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায় থেকে বিতর্কিতভাবে ওই পর্যবেক্ষণ বাদ পড়ে—যে পর্যবেক্ষণে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার অধীনে দশম ও একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারত। পরে সেই পূর্ণাঙ্গ রায়কে ভিত্তি করেই দলীয় সরকারের অধীনে তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার মাধ্যমে শেখ হাসিনা টানা ক্ষমতায় টিকে থাকতে সক্ষম হন।