দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়ে গেলেও আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি টাস্কফোর্সের অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, চুরি কিংবা পেশাগত বিরোধের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যায় অংশ নেয় দু’জন ব্যক্তি। প্রথমে খুন হন সাগর, পরে রুনিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, দুজনই ক্ষত নিয়ে বেশ কিছু সময় জীবিত ছিলেন। তবে ঘটনাস্থলে পাওয়া ডিএনএ প্রমাণ অস্পষ্ট হওয়ায় মূল ঘাতকদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টিভির বার্তা সম্পাদক সাগর এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি। তাদের একমাত্র সন্তান মেঘ তখন পাশেই ঘুমিয়ে ছিল।
সরকার পতনের পর, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেয়। টাস্কফোর্সকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও তারা তা পারেনি। সম্প্রতি সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।
টাস্কফোর্স তদন্তে ১২ জনকে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদ করে, যাদের মধ্যে সাতজন সাংবাদিকও রয়েছেন। তবুও কেউ এই হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তদন্তে উঠে এসেছে, খুন হওয়ার আগের রাতে দম্পতি সন্তানসহ একই খাটে ছিলেন। ঘটনাস্থলে চারটি ডিএনএ নমুনা মিলেছে—তিনজন পুরুষ ও একজন নারী। সাগর ও রুনির বাইরে থাকা বাকি দু’জনকে এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা খুনের পরদিন সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর আগেই গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয়দের কারণে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যায়। রান্নাঘরের বারান্দায় পাওয়া যায় ভাঙা অংশ, যা দিয়ে কেউ সহজেই প্রবেশ করতে পারত, যদিও পূর্ণাঙ্গ পদচিহ্ন মেলেনি।
সিআইডি ও ফরেনসিক টিম জানায়, নমুনায় একাধিক ব্যক্তির ডিএনএ থাকলে সেগুলোর বিশ্লেষণ কঠিন হয়। এই ঘটনায় নমুনায় পাঁচ থেকে ছয়জনের ডিএনএ পাওয়া যাওয়ায় সুনির্দিষ্টভাবে কারা হত্যার সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। ২০১২ সালে র্যাব যে দুজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছিল, তদন্ত এখনও সেই জায়গাতেই আটকে আছে।