জুলাই-আগস্টে কোনো যুদ্ধ সংঘটিত হয় নাই: রাষ্ট্রনিযুক্ত শেখ হাসিনার আইনজীবী

বাংলাদেশ
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান–সম্পর্কিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ঘোষণা করা হবে আগামী বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার শুনানি শেষে এই তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন– পলাতক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং কারাবন্দি সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন পলাতক দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে লিখিত যুক্তি উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধ বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ করা হলেও, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে দেশে কোনো যুদ্ধ হয়নি। বরং এটি ছিল রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিরোধের ফল। তাই এই আইনের আওতায় আসামিদের বিচার করা আইনত অযৌক্তিক।

তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং এ সময় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন। তিনি কখনোই আন্দোলনকারীদের দমন বা হত্যার আদেশ দেননি। বরং আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের সন্তান’ বলে সম্বোধনের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা তার বক্তব্যের অপব্যাখ্যা।

আইনজীবী আমির হোসেন আরও বলেন, আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের ঘটনায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে প্ররোচনা বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগও ভিত্তিহীন। তিনি ওই ঘটনায় মর্মাহত হয়ে নিহত ছাত্রের পরিবারকে সহানুভূতি জানিয়ে সহায়তাও করেছিলেন।

চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ায় হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানোর ঘটনার দায় শেখ হাসিনার ওপর চাপানোর প্রচেষ্টা মিথ্যা ও কল্পিত বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে বলেন, গণঅভ্যুত্থানকালে যে সহিংসতা হয়েছে, তার জন্য পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছে মাত্র। অথচ মামলায় শুধুমাত্র একটি বাহিনীর প্রধান ও সদস্যকে টার্গেট করে আসামি করা হয়েছে, যা পক্ষপাতদুষ্ট বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর যুক্তি, যেহেতু মামলার মূল ভিত্তি ও উপাদানই দুর্বল, তাই শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অধিকার রাখেন।

এদিকে, মামলার আরেক আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আদালতে উপস্থিত থাকলেও তাঁর পক্ষে আইনজীবী জায়েদ বিন আজাদ অভিযোগ গঠনের শুনানিতে অংশ নেননি।

শুনানির শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রধান চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম-এর সংক্ষিপ্ত বক্তব্য গ্রহণ করেন এবং অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের তারিখ হিসেবে ১০ জুলাই নির্ধারণ করেন।