রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত, নিরপেক্ষ ও পেশাদার পুলিশ ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন বিশিষ্ট নাগরিকরা। বৃহস্পতিবার (১ মে) পুলিশ সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তাঁরা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল— ‘নাগরিক ভাবনায় জনতার পুলিশ: নিরাপত্তা ও আস্থার বন্ধন’।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ড. সলিমুল্লাহ খান। আলোচনায় অংশ নেন সম্পাদক নুরুল কবির, শিল্পপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী, পিএসসির সদস্য চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস, নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান, এবং সাবেক আইজিপি মো. আব্দুল কাইয়ুম ও মোহাম্মদ নুরুল হুদা। সমাপনী বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজি গোলাম রসুল।
ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, “পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা যেমন থাকার কথা, তেমন নেই। পুরনো আইন ও বিধির নানা অসংগতি রয়েছে।” তিনি পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনকে অপর্যাপ্ত বলেও মন্তব্য করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “জনগণের পাশে দাঁড়াতে হলে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে হবে। অন্ধ আনুগত্যের পরিণাম সবাই দেখেছে।”
সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম সরাসরি বলেন, “ব্যক্তিগত লাভ ও পদোন্নতির জন্য আমরা অনেক সময় তেলবাজিতে লিপ্ত হই—এটি দ্বিচারিতা, বন্ধ হওয়া উচিত।”
মোহাম্মদ নুরুল হুদা বলেন, “১৮৬১ সালের পুলিশ আইনই অনেক সমস্যার উৎস। সংস্কার কমিশন যদি সমস্যা চিহ্নিত না করে, তবে তার প্রয়োজনীয়তাই প্রশ্নবিদ্ধ।”
সভায় সাংবাদিক, শিক্ষক, লেখক, খেলোয়াড়, অর্থনীতিবিদ, শিল্পীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।