কুষ্টিয়ায় যৌথ বাহিনীর নাটকীয় অভিযান: গ্রেপ্তার শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদ

বাংলাদেশ
কুষ্টিয়া শহরের কালীশংকরপুর এলাকায় যৌথ বাহিনীর এক গোপন অভিযানে ধরা পড়েছেন দেশের কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন। তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও সাতজন, যাদের মধ্যে রয়েছেন আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

সূত্র জানায়, আজ ভোর পাঁচটা থেকে সকাল আটটা পর্যন্ত কালীশংকরপুরের সোনার বাংলা মসজিদের পাশের একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বাড়ির নিচতলা থেকে সুব্রত বাইনকে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধজগতের আলোচিত নাম ছিল সুব্রত বাইন। একসময় মগবাজারের বিশাল সেন্টারকে ঘিরে তাঁর অপরাধ সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে। রেস্টুরেন্টের কর্মচারী থেকে হয়ে ওঠেন দুর্ধর্ষ অপরাধী। দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও খুনের সঙ্গে তাঁর নাম ছিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এজন্য তাঁকে ‘বিশালের সুব্রত’ নামেও চেনা হতো।

২০০১ সালে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার যে ২৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকা প্রকাশ করেছিল, তাতে সুব্রত বাইনের নামও ছিল। বর্তমানে তাঁর নামে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে। বয়স দেখানো হয়েছে ৫৫ বছর। এক সময় তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া মোল্লা মাসুদ ২০১৫ সালে ভারতে ধরা পড়েন এবং জামিনে মুক্ত হয়ে সেখানেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়। তিনি ‘আবু রাসেল মো. মাসুদ’ নামে ভারতীয় নাগরিকত্ব নিয়ে বসবাস করছিলেন। মতিঝিল ও গোপীবাগ এলাকায় তাঁর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছিল বেশ আলোচিত। সুব্রত বাইনের হাত ধরেই মাসুদের অপরাধজগতে প্রবেশ বলে জানায় নিরাপত্তা বাহিনী।

মোল্লা মাসুদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক হত্যা মামলা, যার মধ্যে রয়েছে সাবেক এমপি কামাল মজুমদারের ভাগনে মামুন হত্যা, পুরান ঢাকার মুরগি মিলন হত্যা এবং খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ার ট্রিপল মার্ডার মামলা। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন থানায় রয়েছে অসংখ্য চাঁদাবাজির অভিযোগ।

স্থানীয়রা জানান, অভিযানের সময় ভোরে হঠাৎ করে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ওই বাড়ির সামনে আসে। সেনাসদস্যরা ছাত্রাবাসে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের একটি কক্ষে বসিয়ে রেখে অভিযান চালান এবং দাড়িওয়ালা এক ব্যক্তিকে খুঁজতে থাকেন। অভিযানের শেষে হাতকড়া পরা এক ব্যক্তিকে ও দড়ি বাঁধা আরেকজনকে কালো মাইক্রোবাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়।

সেনা কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, "ভয়ের কিছু নেই, তোমরা বসে থাকো, এখানে শুধু অভিযান চলছে।" অভিযানের সময় একজন সেনা কর্মকর্তা বলেন, “এখন বললে ভয় পাবে, পরে মিডিয়াতে সব জানতে পারবে।”

এই অভিযান দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।