বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মির ব্যাপক উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওগুলো বাস্তবতার প্রতিফলন নয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম নগরের সার্কিট হাউজে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আরাকান আর্মি বহুদিন ধরে যুদ্ধ করছে এবং তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশের এই পারেও সংসার করেছে। এটি অস্বীকারের কিছু নেই। তবে টিকটকে ছড়ানো ভিডিওগুলো অনেক সময় অতিরঞ্জিত হয়—সব সত্য নয়, আবার সব মিথ্যাও না।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত সুরক্ষিত এবং সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আরাকান সীমান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই সীমান্ত বেশ জটিল। মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে, তবে বাস্তবতা হলো, ওদের অনেক এলাকা আরাকান আর্মির দখলে। এখন সেখানে কিছু আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে দুই পক্ষকেই আলাদাভাবে অর্থ দিতে হয়, যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।”
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অপহরণ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি নিজে তিনবার পাহাড়ে দায়িত্ব পালন করেছি। তখনকার অবস্থা দেখলে বুঝতেন এখন কতটা শান্ত আছে। সাজেকে এখন পর্যটকের ঢল, আগে যেখানে সৈন্য পরিবহনকারী গাড়ি ল্যান্ডমাইনে উড়িয়ে দেওয়া হতো।”
চট্টগ্রামের রাউজানে ঘটে যাওয়া খুনোখুনির প্রসঙ্গেও তিনি মন্তব্য করেন, “আইনশৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা অনেক সময় অপকর্ম করে পাহাড়ে পালিয়ে যায়। তবে যদি তারা এলাকাতেই থাকে, আমি এখনই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি, যেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
যৌথ বাহিনীর অভিযান কমে যাওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, “অভিযান কমেনি। বরং এর ফলেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সত্য সংবাদ প্রকাশে আপনাদের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। মিথ্যা সংবাদ সমস্যা সৃষ্টি করে, পার্শ্ববর্তী দেশের সাংবাদিকরা সেটা কাজে লাগায়।”
এই মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।