বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে পুলিশের গুলিতে চোখ হারানো ফরিদ শেখ ওরফে লাবিব (১৭) ফের বর্বর হামলার শিকার হয়েছে। রোববার (৬ এপ্রিল) রাতে পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা ইউনিয়নের গোপেরহাট এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
ফরিদ শেখ পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা গ্রামের ইলিয়াছ শেখ ও সালমা বেগমের পালিত ছেলে। বর্তমানে সে দাদার বাড়িতে থেকে স্থানীয় তেজদাসকাঠী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণিতে পড়ে। ২০২৩ সালের ৪ আগস্ট ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় তার বাম চোখে গুলি লাগে, ফলে চিরতরে সেই চোখ হারাতে হয় তাকে।
তার মা সালমা বেগম সোমবার (৭ এপ্রিল) পিরোজপুর সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ৩-৪ জনকে অজ্ঞাতনামা হিসেবে অভিযুক্ত করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, ফরিদের সঙ্গে পূর্বে নামাজের সময় কলহ হয় রাজারকাঠী গ্রামের নাছির কাজীর ছেলে রাকিব কাজীর সঙ্গে। স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসা হলেও রাকিবের ক্ষোভ থেকে যায়। সেই ঘটনার জের ধরেই রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে গোপেরহাট ভাঙ্গা পুল এলাকায় ফরিদকে একা পেয়ে রাকিব, সিয়াম শিকদার, নাছির কাজী, শাকিল শিকদারসহ ৭-৮ জন মিলে ধারালো অস্ত্র, পাইপ ও ইট দিয়ে তাকে আঘাত করে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদকে উদ্ধার করে প্রথমে গ্রামের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় এবং পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করায়।
পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুস সোবাহান বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। থানায় লিখিত অভিযোগ এসেছে, মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”