ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে বুধবার এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের নেতা কামরুল ইসলামকে ঘিরে। শাহবাগ থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির সময় তার এক আইনজীবী চকলেট দিতে গেলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশকে ধমক দেন কামরুল ইসলাম।
সেদিন সকালে কারাগার থেকে তাকে আদালতের হাজতখানায় আনা হয় এবং সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে এজলাসে তোলা হয়। এ সময় কামরুল ইসলামের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট ও শরীরে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় নেওয়ার পর এগুলো খুলে ফেলা হয়।
এ সময় তার আইনজীবী মোর্শেদ হোসেন শাহীন চকলেট হাতে নিয়ে সাবেক মন্ত্রীকে দেন। কামরুল ইসলাম সেটি মুখে নিতেই পুলিশ সদস্যরা আইনজীবীকে বাধা দেন ও ধমকান। এতে কামরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমি ডায়াবেটিসের রোগী, তাই চকলেট দিয়েছে। এর জন্যও বাধা দেবেন? বেয়াদব কোথাকার!”
ঘটনার কিছুক্ষণ পর হাকিম মো. জুয়েল রানা এজলাসে আসেন এবং কামরুল ইসলামকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
পরে তার আরেক আইনজীবী আফতাব মাহমুদ চৌধুরী আদালতের অনুমতি নিয়ে কামরুল ইসলামকে পানি ও চকলেট খাওয়ানোর আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তা অনুমোদন করেননি।
আইনজীবী আফতাব মাহমুদ বলেন,
“কামরুল ইসলাম ক্যান্সার ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সকালে কারাগার থেকে আনা হলেও তাকে পানি খাওয়ার অনুমতিও দেওয়া হয়নি। এটি মানবিকতার পরিপন্থী।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৪ আগস্ট ‘জুলাই আন্দোলন’-এর সময় বাংলামোটরে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগে আল আমিন ইসলাম নামের এক ব্যক্তি কামরুল ইসলামসহ ৬৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় আল আমিন গুলিবিদ্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর ঢাকার উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর থেকে কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তাকে একাধিক মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।