পৃথিবীর বাইরে জীবনের খোঁজে নতুন মোড়: দূর আকাশগঙ্গার গ্রহে জীবন থাকার ইঙ্গিত!
মানবজাতির বহুল চর্চিত প্রশ্ন, "আমরাই কি এই মহাবিশ্বে একা?" এর উত্তরের দিকে হয়তো আরেক ধাপ এগোল বিজ্ঞান। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এমন এক গ্রহের পরিবেশে রহস্যজনক রাসায়নিক পদার্থের চিহ্ন পেয়েছেন যা পৃথিবীতে কেবলমাত্র জীবিত জীবের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়।
প্রফেসর নিক্কু মধুসূদন-এর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, K2-18b নামের এক বহুদূরের গ্রহের বায়ুমণ্ডলে ডাইমিথাইল সালফাইড (DMS) এবং ডাইমিথাইল ডিসালফাইড (DMDS) নামক গ্যাসের উপস্থিতির ইঙ্গিত রয়েছে। পৃথিবীতে এই গ্যাসগুলো সাধারণত সাগরের শৈবাল এবং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা তৈরি হয়।
এই প্রথম নয়, এর আগেও এই গ্রহে জীবনের সম্ভাব্য রাসায়নিক চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু এবারের ফলাফল আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিশ্রুতিশীল। গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র একটি পর্যবেক্ষণ পর্বেই এই গ্যাসের উপস্থিতি পৃথিবীর তুলনায় হাজার গুণ বেশি।
প্রফেসর মধুসূদন বলেন, “যদি এই গ্যাস জীবনের ফল হয়, তবে এই গ্রহে জীবন উপচে পড়ছে।”
K2-18b পৃথিবীর আকারের প্রায় আড়াই গুণ এবং এটি পৃথিবী থেকে ১২৪ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। যদিও এত দূরে পৌঁছানো মানুষের পক্ষে অসম্ভব, নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST)-এর মাধ্যমে এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলের আলো বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে।
তবে গবেষণাটি এখনো চূড়ান্ত প্রমাণে পৌঁছায়নি। বর্তমান পর্যবেক্ষণ ৯৯.৭% নিশ্চিত হলেও, বিজ্ঞানসম্মতভাবে “আবিষ্কার” ঘোষণার জন্য প্রয়োজন ৯৯.৯৯৯৯৯% নিশ্চিততা, অর্থাৎ "ফাইভ সিগমা" মান। বর্তমানে এটি "থ্রি সিগমা" পর্যায়ে রয়েছে।
তবুও, প্রফেসর মধুসূদনের আশা, “আর এক বা দুই বছরের মধ্যেই আমরা এই সংকেতের চূড়ান্ত নিশ্চিততা পেতে পারি।”
তবে কেবল মাত্র গ্যাসের উপস্থিতি জীবনের প্রমাণ নয়। এটি ভূ-রসায়ন বা অজানা প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেও সৃষ্টি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন অনেক স্বাধীন বিজ্ঞানী। কেউ কেউ মনে করেন এই গ্রহে বিশাল জলাধার থাকতে পারে, আবার অনেকে বলেন এটি একটি পাথুরে বা গ্যাসে ভরা গ্রহ — যেখানে জীবন সম্ভব নয়।
কেমব্রিজের অধ্যাপক অলিভার শোর্টল বলেন, “আমরা যা কিছু জানি, সবই এই গ্রহের বায়ুমণ্ডলের ক্ষীণ আলো বিশ্লেষণের উপর নির্ভরশীল। ফলে এটি একটি অতি সূক্ষ্ম এবং জটিল ইঙ্গিত।”
তবুও, এই গবেষণা মহাবিশ্বে জীবনের অনুসন্ধানে একটি বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রফেসর মধুসূদন বলেন, “হয়তো কয়েক দশক পর আমরা ফিরে তাকিয়ে দেখব, এটাই ছিল সেই সময় যখন ‘জীবিত মহাবিশ্ব’ আমাদের নাগালের মধ্যে এল।”
সুত্র: বিবিসি নিউজ