“বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৯৬৯ মামলা প্রত্যাহারে অন্তর্বর্তী সরকারের নোলি প্রসিকিউই সিদ্ধান্ত"

রাজনীতি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়েরকৃত ৯৬৯ টি  মামলার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই মামলাগুলো মূলত দায়ের হয়েছিল রাজনৈতিক কর্মসূচি, যেমন বিক্ষোভ, মিছিল, হরতাল, অবরোধ, সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণ সংক্রান্ত অভিযোগ, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে। মামলাগুলোর অধিকাংশই বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল, বিশেষ করে ২০১৩-১৫ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়গুলোতে। একটি সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, বিশেষ বিবেচনায় সরকার এসব মামলা প্রত্যাহারে সম্মতি জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এই আদেশ ইতোমধ্যে জারি হয়েছে এবং তা কার্যকর করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

প্রত্যাহারযোগ্য মামলাগুলো মূলত রাজনৈতিক কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ, মিছিল, এবং রাজনৈতিক বিরোধের সময়কালীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হয়েছিল। সরকার মনে করছে, এসব মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত রাখতে পারে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যেসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের হয়েছিল এবং যেগুলোতে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সেগুলো আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রত্যাহার করা হবে

এই আদেশ আরও লেখা আছে যে , উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশক্রমে জানানো যাচ্ছে যে, সরকার ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯৪ ধারার আওতায় ঢাকা মহানগর এলাকায় নিন্মোক্ত মামলাসমূহ প্রসিকিউশন না চালানোর (nolle prosequi) সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। 

যার মানে হলো কোনো মামলা বিচারাধীন থাকাকালীন, সরকার চাইলে আদালতের অনুমতি নিয়ে মামলা প্রসিকিউশন না চালানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এটিকে আইনের ভাষায় বলা হয় “Nolle Prosequi” — যার অর্থ “আমি আর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা চালাতে চাই না”।