২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের মতো একতরফা ও বিতর্কিত নির্বাচন আর দেশের মানুষ মেনে নেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লার লাকসাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত লাকসাম উপজেলা ও পৌরসভা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “আমাদের দল নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত। তবে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ভোট আয়োজন করতে হবে। এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি আহ্বান জানাই—আপনি যে সময়সীমা দিয়েছেন, তার মধ্যেই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন। একই সঙ্গে পুলিশ, জনপ্রশাসন ও সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করুন। যারা অতীতে গণতন্ত্র হত্যা করেছে, রক্তপাত ঘটিয়েছে, তাদের বিচার দৃশ্যমান করতে হবে।”
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, “প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রস্তাব আমরা ইতিবাচকভাবে দেখছি। তিনি নির্বাচনের একটি সময়সীমাও দিয়েছেন। সরকার বলছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৬ সালের জুন, যে সময় চান, নির্বাচন দিন। কিন্তু একটা কথা পরিষ্কার, চৌদ্দ, আঠারো, চব্বিশের মতো প্রহসনের নির্বাচন আর বাংলার মানুষ হতে দেবে না।”
সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম। লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমির মো. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মো. আবদুর রব, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, কুমিল্লার পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন।
সম্মেলন শেষে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৮ আসনে অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল, কুমিল্লা-৯ এ ড. একেএম সৈয়দ সারোয়ার সিদ্দিকী, কুমিল্লা-১০ এ মাওলানা ইয়াসিন আরাফাত এবং কুমিল্লা-১১ আসনে ডা. আবদুল্লাহ মো. তাহেরকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন এবং তাদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।