স্বাধীনভাবে ভোট দিতে দিলে দেশে শান্তি ফিরবে’ : কাদের সিদ্দিকী

রাজনীতি
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, জনগণকে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে পারলেই দেশে স্থিতি ফেরানো সম্ভব। তাঁর অভিযোগ, অতীতে নির্বাচন কমিশন সরকার পক্ষের মতো আচরণ করেছে; তবে এবার আস্থা পুনরুদ্ধারের একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে।

রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির আয়োজিত দ্বিতীয় দিনের সংলাপে ছয়টি রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার, জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ইসির শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিনি কোনো প্রস্তাব নিয়ে আসেননি; বরং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে সম্মান জানাতে সংলাপে যোগ দিয়েছেন। সরকারের ডাকে আলোচনায় যাওয়ার প্রতি দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর অনীহা আছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৫ মাস ধরে সরকারের কোনো বৈঠকে যাই না, নির্বাচন পর্যন্ত যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।”

তিনি অভিযোগ করেন, নিবন্ধিত দল বহু হলেও আলোচনায় ডাকা হয় দু–একটিকে, যা নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। অতীতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছিল যেন শেখ হাসিনাই বাংলাদেশ, আর আওয়ামী লীগই বাংলাদেশ।”

‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে অপরাধ হিসেবে দেখানো যায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণে কাউকে কারাবন্দি করা হলে ইতিহাস তার জবাব চাইবে।

ইসির ক্ষমতার প্রশ্নে তিনি মন্তব্য করেন, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশনই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ; সরকারের কাজ কেবল ইসির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।

অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ভোটের ফল পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে। “এক কেন্দ্রে ১৭০৮ ভোট ২৬০০ হয়ে গেছে। মানুষ তিন দফা চেষ্টা করেও ভোট দিতে পারেনি। না খেয়ে থাকা যায়, কিন্তু ভোট না দিতে পারার কষ্ট সহ্য করা যায় না।”

গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের সিদ্ধান্তকে তিনি বড় অসঙ্গতি হিসেবে আখ্যা দেন। তাঁর মতে, ভোটাররা চারটি প্রশ্নে দুইটি ‘হ্যাঁ’ ও দুইটি ‘না’ দিতে পারবে কি না—এ বিষয়টি জনগণের অজানা, ফলে অংশগ্রহণ কম হলে পুরো নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার তাদের দলকে কোনো বৈঠকে ডাকেনি বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইসির আমন্ত্রণ পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

শেষে তিনি বলেন, “জনগণকে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে দিলে বাংলাদেশ সুইজারল্যান্ডের চেয়েও শান্ত দেশ হয়ে উঠতে পারে।”