ঠাকুরগাঁওয়ে এক মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের চলমান সংকটগুলো আসলে সাজানো নাটকের অংশ। সাধারণ মানুষ এসব জটিলতা বোঝে না, তারা শুধু সুষ্ঠুভাবে ভোট দিতে চায়।
রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দৌলতপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জগন্নাথপুর ইউনিয়নবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শের দল। আমরা কথায় ও কাজে বিশ্বাস করি, ভণ্ডামিতে নয়।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণহত্যা হয়েছে। ১৯৭১ সালেও গণহত্যা হয়েছিল—তবে পার্থক্য হলো, একাত্তরে পাকিস্তানিরা এদেশের কিছু সহযোগী নিয়ে তা ঘটিয়েছিল, আর এবার শেখ হাসিনা তার প্রশাসনকে ব্যবহার করে গণহত্যা চালিয়েছে।”
বিএনপি মহাসচিবের দাবি, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, তাই সাধারণ মানুষের কষ্ট তারা অনুধাবন করতে পারে না। তিনি বলেন, “কৃষক ধানের ও শাকসবজির ন্যায্য দাম পাচ্ছে না, হিমাগারে আলু অবিক্রিত পড়ে আছে, সার সংকটে ফসল আবাদে সমস্যায় পড়ছে কৃষক। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।”
নারী ও কৃষকদের জন্য দলীয় পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে তারা ন্যায্যমূল্যে তেল, চাল, ডাল কিনতে পারবেন। কৃষকদের জন্য থাকবে কৃষি কার্ড, যাতে তারা তাদের ন্যায্য অধিকার পায়।”
গণভোট ও নির্বাচনী সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, “নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে। জনগণ এসব জটিল বিষয় বোঝে না, এসব বোঝে শিক্ষিতরা। আমরা প্রয়োজনীয় সংস্কারে রাজি, তবে যা জনগণের স্বার্থবিরোধী, তা সংসদে গিয়েও পাস হতে দেব না।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার মধ্যে জনগণকে বেছে নিতে হবে। এটা আমার শেষ নির্বাচন। হয়তো পরের বার শারীরিক শক্তি থাকবে না। তাই শেষ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে আমাদের পাশে থাকবেন।”
সভায় জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, পৌর বিএনপির সভাপতি শরিফুল ইসলাম শরীফ, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন তুহিনসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।