আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বাইরে একটি বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে নয়টি সমমনা দল। শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, বরং জুলাই সনদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যেই এই নতুন জোটের রূপরেখা তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পল্টনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ নিয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ অধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, গণতন্ত্র মঞ্চসহ মোট নয়টি দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান সাংবাদিকদের জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ চলছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেই আলোচনা আবারও সক্রিয় হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত নই। তাই এখন আলোচনা হচ্ছে—এই দলগুলো কি ‘তৃতীয় শক্তি’ বা ‘নতুন জোট’ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারে কি না।” ফারুক হাসান আরও আশা প্রকাশ করেন, “জনগণও এখন একটি নতুন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি দেখতে চায়।”
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সাত দিনের সময় দিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব এখন রাজনৈতিক দলগুলোর উপরেই পড়েছে।
তিনি আরও জানান, “বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজতে আমরা আলোচনায় বসেছি। কিছু বিষয়ে আমরা কাছাকাছি এসেছি এবং অন্যান্য দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।”
সভায় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি ও মঞ্চের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, গণ অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, মুখপাত্র ফারুক হাসান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ কায়সার এবং ভাসানী জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসূফ সেলিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ |