নির্বাচন ও অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ মির্জা আব্বাসের, ড. ইউনূসকে সতর্ক থাকার আহ্বান

রাজনীতি
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে থাকা কিছু ব্যক্তির কর্মকরণ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তিনি বলেন, এই উপদেষ্টা দলের সদস্য ও তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন, যারা ইউনূসকে ভুল পথে পরিচালিত করতে পারেন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র, সংস্কার ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণতন্ত্র ফোরাম।

মির্জা আব্বাস বলেন, “ড. ইউনূস একজন নোবেল বিজয়ী, তাঁর অর্জনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। তবে যাঁদের তিনি আশপাশে রাখছেন, তাঁদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় বা অতীত ভূমিকা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মোহাম্মদ সুফিউর রহমানকে তিনি ‘আওয়ামী লীগের প্রোডাক্ট’ হিসেবে অভিহিত করে এ নিয়োগের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।”

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য সময়সূচি নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। কখনো বলা হচ্ছে ডিসেম্বর, কখনো আবার জুন। এই ধোঁয়াশা দূর না হলে জনআস্থা তৈরি হবে না।”

নির্বাচন ও সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, “আমরা নির্বাচন চাই, আমরা সংস্কারও চাই—কিন্তু সেটা হতে হবে দেশের মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায়। অপ্রয়োজনীয় সংস্কার, যেটা জনবিরোধী হবে, সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।”

দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাজপথে বিএনপির দীর্ঘ আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে বিএনপির প্রায় ৫ হাজার কর্মী নিহত ও বহু গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। এখনো আন্দোলনের পথেই আছি। কিন্তু সংস্কারের নামে যদি এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা আমাদের অর্জন নষ্ট করে দেয়—তা মেনে নেওয়া যাবে না।”

বিদেশে অবস্থানরত ইউটিউবার ও সাংবাদিকদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিদেশে বসে যাঁরা দেশের রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেন, তাঁদের উচিত দেশের মাটিতে এসে অংশগ্রহণ করা। কেবল সমালোচনা করে নয়, সরাসরি অংশ নিয়ে পরিবর্তনের পথে কাজ করতে হবে।”

বক্তব্যে তিনি প্রশাসনে বর্তমান শাসক দলের ‘প্রভাব’ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বলেন, “১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পর প্রশাসনে বিএনপির প্রভাব আছে বলে দাবি করা হাস্যকর।”

তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি না করতে সবার প্রতি আহ্বান জানান এবং বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য ও স্পষ্টতা অপরিহার্য।”

আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন গণতন্ত্র ফোরামের সভাপতি ভি পি ইব্রাহিম। বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আবদুস সালাম আজাদ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ। সঞ্চালনায় ছিলেন গণতন্ত্র ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান।