নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ: অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের অপসারণ দাবি বিএনপির

রাজনীতি

রাজনৈতিক ভারসাম্য ও অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তিন উপদেষ্টার অপসারণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গুলশানে আজ বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্যের স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, কিছু উপদেষ্টা রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছেন বলে জনমনে বিশ্বাস জন্মেছে।” যদিও তিনি কারো নাম উল্লেখ করেননি, আগের দিন বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেন সরাসরি স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে খন্দকার মোশাররফ বলেন, “সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে তাঁকেও অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে এবং এটি ছোট পরিসরে রুটিন কার্যক্রম পরিচালনার মতো সীমিত হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা সরকারকে নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে বিচ্যুত করছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি জানানো হয়, নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে জাতীয় নাগরিক পার্টির কর্মসূচি সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। খন্দকার মোশাররফ বলেন, “নির্বাচনী আলোচনার প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও কমিশন ঘেরাও কর্মসূচি উদ্দেশ্যমূলক। কমিশনের দায়িত্ব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন—not স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “সরকার যখন জনআকাঙ্ক্ষা উপেক্ষা করে, তখন চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। এই সংস্কৃতি সরকারের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করছে এবং অন্যদেরও একই পথ অনুসরণের সুযোগ তৈরি করছে।”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইস্যুতে আদালতের রায় মেনে দ্রুত ইশরাক হোসেনকে শপথ গ্রহণ করানোর দাবি জানান তিনি। তাঁর মতে, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি জোরালোভাবে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশের দাবি জানায় এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই একটি নির্বাচিত সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব দেয়। মোশাররফ হোসেন বলেন, “নির্বাচন ও সংস্কার—দুয়েরই সমান্তরাল অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, বিএনপির বারবার দেওয়া পরামর্শ ও প্রস্তাব যদি এবারও উপেক্ষিত হয়, তাহলে দলটি সরকারকে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে কি না—সে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে।

উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির অন্য তিন শীর্ষ নেতা—আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।