জাতীয় ঐক্যের আহ্বান খালেদা জিয়ার

রাজনীতি

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত “গণঅভ্যুত্থান ২০২৪: জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা” শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’ থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ আহ্বান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, “বর্তমান সময়ে আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এসেছে গণতন্ত্রকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার। আমাদের দায়িত্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকা। বীর শহীদদের রক্ত ও মা-বোনের অশ্রু যেন কোনোভাবেই নিষ্ফল না হয়, সে লক্ষ্যে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”

বক্তব্যের শুরুতে তিনি স্মরণ করেন ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে, যা তাঁর ভাষায়, “১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধের একটি গৌরবময় অধ্যায়।” তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসন চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিল, কিন্তু ছাত্র ও জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে তা ব্যর্থ হয়েছে। এখন সময় এসেছে নতুনভাবে বাংলাদেশ গড়ার।”

আন্দোলনে নিহত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং আহতদের প্রতি গভীর সহমর্মতা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, “গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করতে হবে, এবং তাদের বিচার ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও নিরাপদ ভবিষ্যতের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আলোচনার শুরুতে “জাতীয় ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা” শীর্ষক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে।