জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ: জীবনে দু'বারের বেশি প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাবে না

রাজনীতি

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ করেছে, কেউ জীবনে দু'বারের বেশি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদ হারালেও, সেটি একবারের দায়িত্ব পালন হিসেবেই বিবেচিত হবে। এভাবে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার পরও যদি মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগ বা আস্থা ভোটে হার হয়, তবু দু'বারই গণ্য হবে।

কমিশন সূত্রগুলো জানিয়েছে, ‘দুই মেয়াদ’ নয়, ‘দুইবার দায়িত্ব পালন’কেই সীমা হিসেবে ধরা হয়েছে। এই প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর হলেও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্দিষ্ট হবে না। একজন ব্যক্তি টানা দুইবার বা দু'বার আলাদা সময়ে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন; এরপর আর পারবেন না। বিএনপি ও জামায়াতের মতো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ‘দুইবার’ ও ‘দুই মেয়াদ’ নিয়ে ব্যাখ্যা বিভ্রান্তি থাকলেও, কমিশন সুস্পষ্ট করে দিয়েছে— বিষয়টি 'বার' গণনায় নির্ধারিত হবে, মেয়াদে নয়।

বিএনপি চাইছে, পরপর দুই মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়া নিষিদ্ধ হোক, তবে একবার বিরতি দিয়ে তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়া যাক। কমিশন জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিলেও বিএনপি এতে একমত হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত করার প্রত্যাশা আছে।

কমিশনের সদস্যরা যুক্তি দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী পদের নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই বলে 'দুইবার' উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, নির্দিষ্ট সময় (যেমন ১০ বছর) বেঁধে দিলে কেউ তিন বা তারও বেশি সংসদে প্রধানমন্ত্রী থেকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে ভারতের অটল বিহারি বাজপেয়ির স্বল্পমেয়াদি প্রধানমন্ত্রিত্ব এবং যুক্তরাজ্যের বরিস জনসন, লিজ ট্রাস ও ঋষি সুনাকের একই সংসদে একাধিক প্রধানমন্ত্রী হওয়ার নজির তুলে ধরা হয়েছে।

কমিশন আরও বলেছে, প্রধানমন্ত্রী আস্থা ভোটে হারলেও বা নিজে পদত্যাগ করলেও, তা একবারের প্রধানমন্ত্রিত্ব হিসেবেই বিবেচিত হবে। সংসদ ভাঙা হবে কেবল তখনই, যখন রাষ্ট্রপতি নিশ্চিত হবেন সংসদের মধ্যে আর কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমর্থন পেতে সক্ষম নন।

বিশ্বের ৬২টি দেশে রাষ্ট্রপতির মেয়াদ সীমাবদ্ধ থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ নেই। তবে বাংলাদেশে ক্ষমতার অপব্যবহার রোধে এমন সুপারিশ করা হয়েছে। অতীতে তুরস্কে ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকা নিষিদ্ধ ছিল, সেখান থেকে অনুপ্রেরণাও নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা করে চূড়ান্ত অবস্থান ঠিক করবে বলে জানিয়েছে। আগামী জুলাই মাসে ‘জুলাই সনদে’ এ বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।