জাতীয় প্রেস ক্লাবে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন যে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে একটি মহল দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
তিনি বলেন, আগামীকাল ঘোষিতব্য এই রায় নিয়ে দেশে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। “ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার রায় সামনে রেখে অশান্তি উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, যাতে ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে অর্জিত সুযোগ নষ্ট না হয়,” মন্তব্য করেন তিনি।
ফখরুল বলেন, মওলানা ভাসানী দেশের জন্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মধ্যেই ভাসানী সেই নেতৃত্বের সম্ভাবনা দেখেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দেশের রাজনীতি এখন বিভ্রান্তিকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত ১৬ বছর ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিএনপির বহু নেতা–কর্মী গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা ও হত্যার শিকার হয়েছেন—এ অভিযোগও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর দাবি, শেষ পর্যন্ত ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তারা রাজনৈতিক কাঠামোকে সঠিক পথে আনতে চেষ্টা করছে, কিন্তু তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—এখনই বলা কঠিন।”
নির্বাচনই গণতন্ত্রে ফেরার একমাত্র পথ উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচন নিয়ে এখনও নানা বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিছু মহল পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে নির্বাচন বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
সব রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আর দেরি না করে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সমর্থন দিন, দেশকে একটি নির্বাচিত সরকারের দিকে এগিয়ে যেতে দিন।”