ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পাশাপাশি বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। গত বছরের মতো এবারও তিনি সেনাকুঞ্জের এই আয়োজনে যোগ দেন।
শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টায় গুলশানের বাসা থেকে রওনা হয়ে তিনি সেনাকুঞ্জে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান তাকে স্বাগত জানান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
গাড়ি থেকে নামার পর হুইলচেয়ারে করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। এ সময় তার পরনে ছিল ল্যাভেন্ডার রঙের শিফন শাড়ি। কিছুক্ষণ পর প্রধান অতিথি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। বক্তব্যে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এর অল্প সময় পর খালেদা জিয়া সেনাকুঞ্জে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে কয়েক মিনিট একান্তে কথা বলেন। ড. ইউনূস এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার কামনা করেন। পরে তারা পাশাপাশি বসে পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করেন, যা সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশ টেলিভিশন।
বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গুলশান থেকে রওনা হওয়ার সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান সিঁথি। অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং তার চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন গাড়িবহরে ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরও কয়েকজন নেতা—মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও হাফিজ উদ্দিন আহমেদ—অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন।