ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নবঘোষিত মেয়র হিসেবে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের শপথের দাবিতে টানা কর্মসূচি পালন করছেন তার সমর্থকরা। 'ঢাকাবাসী' ব্যানারে বিক্ষোভরত এই কর্মীদের লাগাতার অবস্থান এবং নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা দেওয়ার মতো পদক্ষেপে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সিটি কর্পোরেশনের সব কার্যক্রম। নাগরিক সেবাসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
গত ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ ফজলে নূর তাপসের বিজয় বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করা হয়। এরপর ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এখনো শপথ অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করেনি। এই বিলম্ব এবং অনিশ্চয়তার প্রতিবাদে ইশরাকপন্থীরা নগর ভবনের সামনেই অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
অবরোধের কারণে বঙ্গবাজার থেকে গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি কনসার্ট ও মঞ্চ স্থাপন করে বিক্ষোভ কর্মসূচিকে আরও জোরদার করা হয়।
বিএনপি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই আন্দোলনে অংশ না নিলেও দলটির শীর্ষ নেতারা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, “প্রয়োজনে দলীয়ভাবে আমরা এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবো।”
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, “মামলাটি বিচারাধীন এবং আইনি জটিলতা রয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে।”
হাইকোর্টে ইতোমধ্যে একটি রিট দায়ের হয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশনের গেজেট স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। রিটের শুনানি শেষ হলেও এখনো চূড়ান্ত আদেশ আসেনি।
নগর ভবনের অবরোধের কারণে শুধু দক্ষিণ সিটির নাগরিক নয়, সচিবালয় থেকে স্থানান্তরিত বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দুর্ভোগে পড়েছেন। বিষয়টি নিয়ে সাবেক স্থানীয় সরকার সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান বলেন, “জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে দাবি আদায় সম্ভব নয়। এভাবে সেবা বন্ধ রাখা উচিত নয়।”
এই অবস্থায় ইশরাক হোসেনের সমর্থকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন। তারা বুধবার সকাল ১০টার মধ্যে শপথ কার্যক্রম শুরু না হলে কর্মবিরতির হুমকি দিয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মেয়র পদের রায় কার্যকর করা এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই পড়ে গেছে। আন্দোলনকারীদের দাবির ন্যায্যতা থাকলেও আদালতের সিদ্ধান্ত এবং সরকারের আইনগত পরামর্শ ছাড়া চূড়ান্ত পদক্ষেপ সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ইস্যু কেবল একটি স্থানীয় সরকার বিষয় না, বরং এটি ক্রমেই একটি জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হচ্ছে, যেখানে আইনি, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতা একে অন্যকে প্রভাবিত করছে।