ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে বসানোর দাবিতে নগর ভবন অবরুদ্ধ, ডিএসসিসির কার্যক্রম অচল

রাজনীতি
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের সব প্রবেশদ্বারে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা। শনিবার বেলা ১২টার দিকে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়, ফলে নগর ভবনের কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়েছে।

‘ঢাকাবাসী’ ব্যানারে সংগঠিত এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ নিতে দেওয়া হয়নি। তারা জানান, নগর ভবনের ৬৫টি গেটে তালা লাগিয়ে তারা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

এর আগে সকালে নগর ভবনের সামনে থেকে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। গুলিস্তান, জিরো পয়েন্ট, পল্টন হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাব অতিক্রম করার সময় পুলিশ তাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়। এতে বাধা পেয়ে তারা পুনরায় নগর ভবনের সামনে ফিরে এসে অবস্থান নেন এবং স্লোগানে স্লোগানে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন:"আসিফের কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও", "অবিলম্বে ইশরাক হোসেনের শপথ চাই", "জনতার মেয়র ইশরাক ভাই, অন্য কোনো মেয়র নাই"

আন্দোলনকারীদের দাবি, জনগণের রায়ে বিজয়ী হয়েও ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব না দেওয়া সরকারের চরম অন্যায়। পুরান ঢাকার আরিফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মেয়র না থাকায় নগরের মশা ও ময়লার সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যাত্রাবাড়ী থেকে আসা নাসরিন আক্তার বলেন, গেজেট প্রকাশের পরও শপথ না পড়ানো আইন ও গণতন্ত্রের প্রতি চরম অবজ্ঞা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ইশরাক হোসেনকে বৈধভাবে নির্বাচিত মেয়র ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে। এরপর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়াই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। তবে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে না।

আজকের কর্মসূচিতে শুধু ইশরাকপন্থী নেতাকর্মী নন, ডিএসসিসির সাধারণ কর্মচারীরাও একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। তারা নগর ভবনের সব গেট বন্ধ রেখে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এতে কেউ ভবনে প্রবেশ করতে না পারায় নগরবাসীর জন্য সেবা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যতক্ষণ না ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ করানো হচ্ছে, ততক্ষণ রাজপথ ছাড়বেন না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।