বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্যের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য করিডোর স্থাপনের সিদ্ধান্ত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, ‘‘আমরা রোহিঙ্গা সংকটে এমনিতেই বিপদে আছি। নতুন করে কোনো যুদ্ধের দিকে যেতে চাই না। আমরা গাজার মতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে চাই না।’’
সোমবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে জনগণের কোনো নির্বাচিত সংসদ সদস্য নেই, ফলে সমস্যা সমাধানে মানুষের দুশ্চিন্তা বেড়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানরা সবকিছু সামলাতে পারছেন না। তাই জরুরি ভিত্তিতে সরকারকে রাজনৈতিক সংস্কার ও একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি।
নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘সরকার বলেছে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করবে। আমরা বলি, এই ধরনের অস্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে স্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করুন। মানুষকে নিশ্চিত করুন।’’
গণসংযোগে অংশ নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে বিএনপির ওপর অবর্ণনীয় দমন–পীড়ন চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘এলাকায় ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে, অনেকের ওপর হামলা হয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমাদের গাড়ি পোড়ানো হয়েছে, রাস্তায় গাছ ফেলে আমাদের আটকে দেওয়া হয়েছিল। নতুন প্রজন্ম ভোটাধিকার থেকেই বঞ্চিত হয়েছে।’’
সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ব্যাংক লুট ও বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ এনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘চাকরির জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। যারা বিএনপির সমর্থক, তাদের চাকরি হয়নি, ব্যবসা হয়নি।’’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘‘জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য আওয়ামী লীগ সবকিছু করেছে। জনগণ বারবার নিজের জীবন দিয়ে প্রতিবাদ করেছে।’’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘আমরা যদি ক্ষমতায় আসতে পারি, প্রথমেই চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করব। যুবসমাজ যেন ন্যায্য সুযোগ পায়, সেটি নিশ্চিত করবো।’’
জগন্নাথপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত কর্মসূচিতে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল হামিদসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে বড় খোচাবাড়ীতে আরেকটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।