আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি: শাহবাগে না গিয়ে আইনি পথে এগোচ্ছে বিএনপি

রাজনীতি
আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে শাহবাগে চলমান আন্দোলনে বিএনপির অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তাদের অবস্থান আগেই পরিষ্কার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা শাহবাগে কেন যাব? আমাদের দাবি তো আমরা অনেক আগেই লিখিত ও মৌখিকভাবে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ করেছি।”

আজ সকালে রাজধানীর মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে নাগরিক কোয়ালিশনের এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন জানান, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগকে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনতে বিএনপি ইতোমধ্যে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছিল। এ প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের বিচার শুরু ও রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িক নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, “যদি সরকার আগেই আমাদের প্রস্তাব আমলে নিত, তাহলে হয়তো আজকের মতো বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হতো না।”

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, “পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নজির আছে, যেখানে ফ্যাসিবাদী ও গণহত্যাকারী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। দেরিতে হলেও এই পথে এগোনো একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা বিএনপির মতামত ও পরামর্শ যথাসময়ে বিবেচনায় নেয় এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দ্রুত একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করে।

আওয়ামী লীগকে ‘মাফিয়া ও ফ্যাসিবাদী দল’ আখ্যা দিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, “তাদের ডিএনএতেই গণতন্ত্র নেই। তাই রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি দেওয়ারও প্রশ্ন ওঠে না।”

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, লেখক জিয়া হাসান, ড. আলী রীয়াজ, জোনায়েদ সাকি, ইফতেখারুজ্জামান, রাশেদ খান, মাহাদী আমিন, সেলিম উদ্দিন, ববি হাজ্জাজ ও উমামা ফাতেমা।

সভার মূল আলোচ্য ছিল নাগরিক কোয়ালিশনের প্রস্তাবিত সাত দফা সংবিধান সংস্কার। বক্তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন সংশোধনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে বিচারের আওতায় আনার বিধান যুক্ত করাকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে অভিহিত করেন।