আওয়ামী লীগের বিচার ও নিষিদ্ধে একমত হেফাজত ও এনসিপি , সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার দাবিও

রাজনীতি
আজ বুধবার, ৯ এপ্রিল সকালে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠক। সেখানে অংশ নেয় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এবং এনসিপি।
বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দু’দলের অভিমত আদান-প্রদান এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ।

বৈঠকটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয় নতুন আলোচনা। কারণ, দুই ভিন্ন মতাদর্শের এই দল এক প্ল্যাটফর্মে এসে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায়।

হেফাজত ও এনসিপি উভয় দল দাবি করেছে, আওয়ামী লীগ একটি সংগঠিতভাবে পরিচালিত দলীয় সহিংসতার মাধ্যমে গণহত্যা চালিয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে দলটি ও তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করা হয়।
তাদের অভিমত, দোষী ব্যক্তিদের বিচারের পাশাপাশি দল হিসেবেও আওয়ামী লীগের জবাবদিহি প্রয়োজন। 

বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন স্থগিত রাখার আহ্বান জানায় হেফাজত ও এনসিপি।
তারা মনে করে, একটি অভিযুক্ত দলের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থাকা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।
বৈঠকে দুই দলই একমত হয় যে, নির্বাচনের আগেই আওয়ামী লীগকে "সন্ত্রাসী সংগঠন" হিসেবে ঘোষণা দিতে হবে। তাদের মতে, অতীতের নানা সহিংস কর্মকাণ্ড এই ঘোষণার জন্য যথেষ্ট প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।

আলোচনায় আরও উঠে আসে যে, আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিরোধী দলের ওপর চালানো মামলাগুলো ছিল অনেকাংশেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এইসব মামলা দ্রুত প্রত্যাহার ও নিষ্পত্তির ওপর জোর দেয় হেফাজত ও এনসিপি।

বৈঠকের শেষে উভয় দল দেশের ভবিষ্যৎ, জনগণের অধিকার ও রাজনৈতিক শুদ্ধতার প্রশ্নে একসঙ্গে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করে।তাদের মতে, এই মুহূর্তে রাজনৈতিক ঐক্য, বিচারের নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহিতাই দেশকে রক্ষা করতে পারে।