"নির্বাচনী মাঠে ঈদ থেকেই, ৪০টি আসনে সক্রিয় জাতীয় নাগরিক পার্টি"

রাজনীতি
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা এবারের ঈদুল ফিতরে অন্তত ৪০টি নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয়ভাবে জনসংযোগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছেন। ঈদের সময় দলীয় নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন।

ঈদের আগে থেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই নির্বাচনী এলাকায় গিয়েছিলেন। রমজানের শেষ ভাগে তাঁরা শহীদ পরিবার, আহত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ইফতার আয়োজন, উপহার বিতরণ এবং মতবিনিময়ের মাধ্যমে সরব ভূমিকা রাখেন। কেউ কেউ স্থানীয় ঈদের জামাতে বক্তব্য দেন, আবার কোথাও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের ছবিও উঠে এসেছে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন জানান, রাজধানী ঢাকায় পোস্টার সুরক্ষিত থাকলেও অনেক জেলায় তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের সময় দলের নেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং ঈদের আনন্দে জনগণের সঙ্গে থেকেছেন।

উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১ আসনে প্রচারণা চালিয়ে আলোচনায় আসেন। শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে তিনি নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে দুই হাজার পোস্টার লাগান এবং একাধিক ইউনিয়নে জনসংযোগ করেন। তিনি জনগণকে দল বা প্রতীকের চেয়ে প্রার্থী দেখেই ভোট দিতে আহ্বান জানান।

ঢাকার বাইরে প্রায় ৪২ জন কেন্দ্রীয় নেতা নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ করেন। অনেকেই শহীদ পরিবারে গিয়ে ঈদ শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন, কেউ আবার গরিব ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেছেন।

ঢাকা-১৪ আসনের প্রার্থী হতে ইচ্ছুক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ঈদের দিন মিরপুরে খাবার বিতরণ করেন। যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার নরসিংদী-২ এলাকায় ঈদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে শহীদ কবর জিয়ারত, মতবিনিময় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন শহীদ পরিবারের সঙ্গে দেখা করে ঈদ উপহার দেন।

এছাড়া চাঁদপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, কুষ্টিয়া, ঝালকাঠি, সিরাজগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, গাজীপুরসহ প্রায় ৩০টির বেশি জেলার বিভিন্ন আসনে এনসিপির নেতারা সক্রিয় ছিলেন। দলীয় নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তাঁরা সাংগঠনিক কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছেন। সামান্তা শারমিন জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে দলের গঠনতন্ত্র চূড়ান্তকরণ, কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও জেলা কার্যালয় স্থাপনসহ নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।

সংক্ষেপে:
ঈদকে কেন্দ্র করে এনসিপির নেতারা রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়তা বাড়িয়েছেন। শহীদ পরিবার ও জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, পোস্টারিং, জনসংযোগ, ইফতার ও ঈদ উপহার কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের প্রার্থিতা ও দলের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণই এখন তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।