খাবারে সীসা থাকা অস্বাভাবিক ও বিপজ্জনক — কারণ এই ধাতু শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, সীসা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, নার্ভাস সিস্টেমে ক্ষতি করে, এমনকি শ্রবণ সমস্যাও তৈরি করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি উচ্চ রক্তচাপ, জয়েন্টে ব্যথা ও প্রজননজনিত সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
তবুও, বিভিন্ন প্রতিবেদনে এখনো আপেলসস, দারুচিনি গুঁড়া, প্রোটিন পাউডার ও চকলেটের মতো খাবারে উচ্চমাত্রার সীসা পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সম্প্রতি শিশুদের খাবারে সীসার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে — কেন খাবারে সীসা থাকে?
কীভাবে খাবারে সীসা প্রবেশ করে
সীসা পৃথিবীর প্রাকৃতিক একটি ধাতু, যা মাটি, পাথর ও পরিবেশে বিদ্যমান। মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির টক্সিকোলজিস্ট ড. জোসেফ জাগরস্কির মতে, কিছু উদ্ভিদ মাটি থেকে বেশি সীসা শোষণ করে এবং তা নিজেদের টিস্যুতে জমা রাখে। ফলে, যদি কোনো এলাকায় মাটিতে সীসার পরিমাণ বেশি হয়, সেখানকার ফসলেও তা থেকে যেতে পারে।
তবে সব সীসাই প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসে না। মানুষের কর্মকাণ্ড — যেমন ধাতু গলানো (smelting), সীসাযুক্ত কীটনাশক ব্যবহার, বা সীসাযুক্ত জ্বালানির ধোঁয়া — মাটিতে ও বাতাসে সীসার পরিমাণ বাড়ায়। যদিও গাড়ির জ্বালানিতে সীসার ব্যবহার বন্ধ হয়েছে, কিছু বিশেষ জ্বালানিতে এখনো তা পাওয়া যায়।
কিছু ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবেও সীসা খাবারে যোগ করা হয়, যেমন ২০২৩ সালে কিছু আপেলসস পাউচে দেখা গেছে। তবে এমন ঘটনা খুবই বিরল।
‘শূন্য সীসা’ সম্ভব নয়
পরিবেশে সীসা স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান থাকায় একেবারে শূন্য মাত্রায় এক্সপোজার বা সংস্পর্শ সম্ভব নয়। তবুও, অল্পমাত্রার সীসাও স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে — বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে, যাদের দেহ ছোট ও বিপাকক্রিয়া দ্রুত।
FDA শিশুদের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ ২.২ মাইক্রোগ্রাম এবং প্রজননক্ষম বয়সের নারীদের জন্য ৮.৮ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত সীসা গ্রহণের সীমা নির্ধারণ করেছে। এই মাত্রা অতিক্রম করলে পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়।
কীভাবে সীসা ঝুঁকি কমানো যায়
বাড়িতে সঠিকভাবে সীসার মাত্রা জানা কঠিন হলেও, কিছু পদক্ষেপে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন — এমন ব্র্যান্ডের খাবার কিনতে যেগুলো নিয়মিতভাবে সীসার পরীক্ষা করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা হলো বৈচিত্র্যময় ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস। এক ধরনের খাবার বেশি খেলে সেই খাবারে থাকা সীসার প্রভাব বেড়ে যেতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, মাঝে মাঝে প্রোটিন পাউডার খাওয়া তেমন সমস্যা নয়, কিন্তু দিনে তিনবার খেলে ঝুঁকি বাড়ে।
একইসঙ্গে পুষ্টিকর খাবার দেহকে সীসা প্রতিরোধে সহায়তা করে। পর্যাপ্ত আয়রনযুক্ত খাবার খেলে শরীর সীসা শোষণের বদলে আয়রন গ্রহণে অগ্রাধিকার দেয়।
ড. জাগরস্কির ভাষায়, “বিষের মাত্রাই আসল পার্থক্য গড়ে দেয়। শরীর নিজে থেকেই টক্সিন দূর করতে সক্ষম, যদি আমরা তাকে যথাযথ পুষ্টি ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য সরবরাহ করি।”