অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া মস্তিষ্কে মাইক্রোব্লিডের ঝুঁকি বাড়াতে পারে

জীবনযাপন
হয়তো আপনি জানেন যে আপনি ঘুমের সময় জোরে নাক ডাকেন, কিন্তু তেমন গুরুত্ব দেন না। অথবা হয়তো চিকিৎসক আপনাকে সিপ্যাপ (CPAP) মেশিন ব্যবহার করতে বলেছেন, কিন্তু সেটি ব্যবহার করতে আপনার কষ্ট হয়। কিন্তু নতুন এক গবেষণা বলছে, অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়াকে অবহেলা করা উচিত নয়, কারণ এটি ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া ও অ্যালঝাইমার রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাঝারি থেকে গুরুতর অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে নতুন মাইক্রোব্লিড (ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণ) হওয়ার ঝুঁকি বেশি। মেও ক্লিনিক কলেজ অব মেডিসিনের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জনাথন গ্রাফ-র্যাডফোর্ড জানান, “বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোব্লিডের প্রবণতা বাড়ে, এবং যাদের মাইক্রোব্লিড আছে, তাদের ভবিষ্যতে স্ট্রোক ও মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।” তিনি আরও বলেন, “যে কোনো কিছু যা মাইক্রোব্লিড বাড়ায়, তা মস্তিষ্কের বার্ধক্যের জন্য উদ্বেগজনক।”

ঘুমের সময় শ্বাসরোধের সমস্যা

অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে গলার নরম টিস্যু ঢিলে হয়ে বায়ুপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়, ফলে ঘুমের সময় শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। এটি সেন্ট্রাল স্লিপ অ্যাপনিয়া থেকে ভিন্ন, যেখানে মস্তিষ্ক মাঝে মাঝে শরীরকে শ্বাস নিতে নির্দেশ দিতে ব্যর্থ হয়।

এই অবস্থার চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:

ঘুমের সময় শ্বাসনালী খোলা রাখে এমন মুখগহ্বরের ডিভাইস ব্যবহার
নিয়মিত সিপ্যাপ বা অনুরূপ মেশিন ব্যবহার
প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের নিউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুডি ট্যানজি বলেন, “এই গবেষণাটি শক্তিশালী এবং এটি চিকিৎসকদের ঘুমের অ্যাপনিয়ার স্ক্রিনিং ও রোগীদের চিকিৎসার বিষয়ে আরও সচেতন করবে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “এটি অবহেলা করবেন না। পদক্ষেপ নিন। কারণ এটি শুধু মাইক্রোব্লিডের ঝুঁকিই নয়, ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার রোগের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।”

লক্ষণগুলো চেনার উপায়

ঘন ঘন ও জোরে নাক ডাকা অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়ার সাধারণ লক্ষণ। ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হওয়া, হাঁপানো বা দম বন্ধ হওয়ার অনুভূতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব, মনোযোগের ঘাটতি, রাগ, ক্ষুধা বৃদ্ধি ইত্যাদিও ঘুমের মান খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রায় ৩০% স্লিপ অ্যাপনিয়া রোগী রাতে ঘামেন, যা রোগের একটি লক্ষণ হতে পারে। রাতে বারবার জেগে ওঠা, দাঁত ঘষা এবং সকালে মাথাব্যথা হওয়াও উপসর্গের মধ্যে পড়ে। ড. ট্যানজি বলেন, “এই গবেষণা আমাদের সতর্ক করছে যে স্লিপ অ্যাপনিয়াকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না, কারণ এটি মস্তিষ্কের ক্ষতি ও ভবিষ্যৎ মানসিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।”

গবেষণাটি JAMA Network Open জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এটি পর্যবেক্ষণমূলক (observational) গবেষণা, তাই এটি প্রমাণ করে না যে স্লিপ অ্যাপনিয়া সরাসরি মাইক্রোব্লিড সৃষ্টি করে। তবে ভবিষ্যৎ গবেষণায় দেখা হবে, স্লিপ অ্যাপনিয়ার চিকিৎসা করলে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব কি না।