জোসে মরিনিও মানেই যেন নাটক, বিতর্ক আর উত্তেজনার নাম! ক্লাব বদলালেও বদলায় না তাঁর বর্ণিল এবং কখনো কখনো বিতর্কিত আচরণ। ফেনেরবাচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তুরস্কে আলোচনার কেন্দ্রে এই ‘স্পেশাল ওয়ান’। আর এবার তো পুরোদস্তুর শাস্তির মুখেই পড়লেন তিনি।
তুর্কি কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে গালাতাসারাইয়ের কাছে ২-১ গোলে হারের পর মরিনিওর মাথা যেন আগুন! ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ কোচ ওকান বুরুকের সঙ্গে কথার লড়াই গড়ায় অদ্ভুত এক পর্যায়ে—মরিনিও আচমকা বুরুকের নাক টিপে ধরেন! আহত ভঙ্গিতে বুরুক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, আর চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে হইচই।
এই ঘটনার জেরে মরিনিওকে তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন। একই সঙ্গে ২ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ লিরা জরিমানা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ফেনেরবাচের সহকারী কোচ সালভাতোর ফোতিও ছাড় পাননি—গালাতাসারাইয়ের
এক খেলোয়াড়কে অপমান করার দায়ে তাঁকে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তুর্কি ফুটবল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মরিনিওর আচরণ ‘অখেলোয়াড়সুলভ’ হলেও বুরুকের উসকানিমূলক অঙ্গভঙ্গির কথা বিবেচনা করে শাস্তি কিছুটা হালকা রাখা হয়েছে। গালাতাসারাই অভিযোগ করেছিল, মরিনিও তাঁদের কোচকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করেছেন। পাল্টা জবাবে ফেনেরবাচে দাবি করেছে, বুরুক নাটক করেছেন, এমনভাবে পড়ে যান যেন তাঁকে গুলি করা হয়েছে!
এর আগেও উত্তপ্ত পরিস্থিতির সাক্ষী হয়েছে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব। গত ফেব্রুয়ারিতে গোলশূন্য ড্রয়ের পর গালাতাসারাই মরিনিওর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ এনে ফৌজদারি মামলার হুমকি দিয়েছিল। যদিও ফেনেরবাচে জানিয়েছে, সেই অভিযোগ সম্প্রতি খারিজ করে দিয়েছে ইস্তাম্বুলের প্রধান কৌঁসুলির কার্যালয়।
তবে মাঠের বাইরে যতই নাটক চলুক, মাঠে গালাতাসারাইয়ের দাপট স্পষ্ট। ২৮ ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে তারা শীর্ষে, আর এক ম্যাচ কম খেলে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ফেনেরবাচে। মরিনিওর সামনে তাই শুধু প্রতিপক্ষ নয়, সামলাতে হচ্ছে বিতর্ক আর নিষেধাজ্ঞার ছায়াও।
বলুন তো, মরিনিও কি আদৌ বদলাবেন? নাকি বিতর্কই তাঁর আরেকটি নাম হয়ে থাকবে?