বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে স্টারলিংকের সম্প্রসারণে নজরদারি বাড়াচ্ছে ভারত

আন্তর্জাতিক
ভারত সরকার সম্প্রতি ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্পেসএক্সের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রকল্প স্টারলিংকের দক্ষিণ এশিয়ার কার্যক্রম বিশেষভাবে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে স্টারলিংকের সম্প্রসারণ নিয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সম্প্রতি কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ভারতের কেন্দ্রীয় টেলিযোগাযোগ বিভাগ (ডিওটি) জানিয়েছে, যে কোনো বিদেশি টেলিকম কোম্পানিকে ভারতে সেবা চালু করতে হলে নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক শর্ত পূরণ করতে হয়। এর মধ্যে নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিধিনিষেধও রয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান স্টারলিংককে অস্থায়ী নিবন্ধন দিয়েছে এবং ২০২৫ সালের মধ্যে সেবার কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে স্টারলিংককে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করেছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি শিগগিরই দেশটিতে ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করতে যাচ্ছে।

ভারতের দৃষ্টি আরও কেন্দ্রীভূত হয়েছে যখন জানা গেছে স্টারলিংক সম্প্রতি ভারতীয় টেলিকম জায়ান্ট রিলায়েন্স জিও ও ভারতী এয়ারটেলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে। এসব চুক্তিকে ভারতীয় স্যাটেলাইট খাতে স্টারলিংকের আনুষ্ঠানিক প্রবেশ হিসেবে ধরা হচ্ছে।

ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেছেন, সরকার সব প্রযুক্তি কোম্পানিকে স্বাগত জানায়, তবে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে ওয়ান ওয়েব ও জিও স্যাটকমসকে ইতিমধ্যে কার্যক্রম চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ইলন মাস্ক ভারত সফরের পরিকল্পনা করছেন এবং তাঁর বৈদ্যুতিক গাড়ি কোম্পানি টেসলারও ভারতের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ইলন মাস্কের ফোনালাপও হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।